বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
নারী

বিতর্কের মুখে স্টারমার,যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাবানা মাহমুদ

GettyImages-2174198378

যুক্তরাজ্যের রাজনীতি আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভ্যন্তরীণ চাপ ও কূটনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়ার পর লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। আর সেই আলোচনায় যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

যদি পরিস্থিতি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় গড়ায় এবং তিনি দলের সমর্থন পান, তবে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে।যুক্তরাজ্য পেতে পারে তার প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।

সংকটের সূত্রপাত কোথায়?

ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্কের প্রসঙ্গ পুনরায় আলোচনায় আসায় সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে।

Advertisements

প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি এই নিয়োগের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। যদিও এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সুরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখা হয়, অনেকেই সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

দলের ভেতরে এখন নীরব আলোচনায় উঠে আসছে একটি প্রশ্ন—স্টারমার কি নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন? অনেকের মতে, পরিস্থিতি ‘ফিফটি-ফিফটি’।

কে এই শাবানা মাহমুদ?

বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা মাহমুদ আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে আসেন। অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন।২০১০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে তিনিও ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার মুসলিম নারী এমপিদের একজন।রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত একজন সুশৃঙ্খল, পরিমিতভাষী এবং কৌশলী সংগঠক হিসেবে। লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান

২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তা, পুলিশ প্রশাসন ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

বিশেষ করে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার বক্তব্য—যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস কোনো স্বতঃসিদ্ধ অধিকার নয়, বরং অর্জিত বিশেষ সুযোগ।

এই অবস্থান লেবারের প্রগতিশীল অংশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করলেও, মধ্যপন্থী ও রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্ভাব্য উত্তরসূরির কারণঃ

দলের ভেতরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে পারবেন লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে?

শাবানা মাহমুদের পক্ষে যে বিষয়গুলো কাজ করছে:

১।মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ অবস্থান

২।আইনি পটভূমি ও প্রশাসনিক দক্ষতা

৩।প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অভিজ্ঞতা

৪।কঠিন নীতি গ্রহণে দৃঢ়তা

নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো শুরু হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষে।

ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। শাবানা মাহমুদ যদি নেতৃত্বে আসেন, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—বরং বহুসাংস্কৃতিক ব্রিটেনের রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠবে।

তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। একদিকে দলের ভেতরের মতপার্থক্য, অন্যদিকে জনসমর্থনের সংকট—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই তাকে এগোতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—ব্রিটিশ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শাবানা মাহমুদ।

Advertisements
প্রধানমন্ত্রীবিতর্কযুক্তরাজ্যেরশাবানা মাহমুদস্টারমার