বিজ্ঞানে নারীর সমান অংশগ্রহণ ছাড়া মানবজাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশু বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ আবারও জোর দিয়ে বলেছে—বিজ্ঞানে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত না হলে মানবজাতির টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে নারীরা এখনও কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার।
১১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশু বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব জানান, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনও আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশ্বজুড়ে গবেষকদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নারী।
বার্তায় বলা হয়, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এই বৈষম্য আরও প্রকট। তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ২৬ শতাংশ, আর ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে এই হার নেমে আসে ১২ শতাংশে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের প্রযুক্তি যারা তৈরি করছেন সেখানে নারীর কণ্ঠ প্রায় অনুপস্থিত। নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীর অনুপস্থিতির ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পক্ষপাত তৈরি হচ্ছে যা বাস্তব জীবনে নারীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
এই অনুপস্থিতি কেবল সংখ্যার সমস্যা নয়। জাতিসংঘের মতে, নেতৃত্বের জায়গায় নারীর অভাব ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পক্ষপাত তৈরি করছে—যার প্রভাব পড়ছে বাস্তব জীবনে। অ্যালগরিদম, ডেটা কিংবা ডিজিটাল সিদ্ধান্ত—সব জায়গাতেই লিঙ্গবৈষম্যের ছাপ পড়ছে।
মহাসচিব আরও বলেন, বিজ্ঞান থেকে নারীদের বাদ দেওয়া মানে জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য সংকট কিংবা ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় মানবজাতির সামষ্টিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। এসব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি মেয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করার সুযোগ থাকা জরুরি।
বার্তায় জানানো হয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতে (STEM) নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতিসংঘ বিভিন্ন স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ ও মেন্টরশিপ কর্মসূচি চালু রেখেছে।
বার্তার শেষাংশে জাতিসংঘ আহ্বান জানায়—আজ এবং প্রতিদিন এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে, যেখানে নারী ও কন্যাশিশুরা তাদের বৈজ্ঞানিক স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। এটি শুধু নারীর অধিকার নয় বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য জরুরি।



