বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
নারী

৫৬ বছর ধরে ভোটবিমুখ রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা

49ba94b4-42b6-4280-86e4-fc3ed7f85602

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯.২৬ শতাংশ।  মোট জনসংখ্যার এই নারী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কোনো দলের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। কিন্তু কিছু জেলায় নারীদের এই ভোট দেয়ার বাস্তব পরিস্থিতি হতাশাজনক। বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন চিন্তা রয়েছে গ্রামীণ ও শহুরে কর্মজীবী–নারীদের মধ্যে।

যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহব্বান জানাচ্ছেন, সেখানে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা  দক্ষিণ ইউনিয়নে গত ৫৬ বছর ধরে কোন নারী ভোটকেন্দ্রে যান না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে ভারতের জৈনপুর থেকে আগত পীর মওদুদল হাসান কলেরা মহামারির সময় নারীদের পর্দা মেনে চলা ও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেন।  যদিও সুনির্দিষ্টভাবে এ তথ্যের কোনো  প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  তবে বছরের পর বছর ধরে এটি এলাকার একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।এই ইউনিয়নে ভোট না দেয়ার তালিকায় রয়েছেন মুসলিম ছাড়াও সনাতন-খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের নারীরাও। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের নারীরা আজও ভোট দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। পারিবারিক চাপ, পীরের কথা অবমাননা বা ক্ষতির আশঙ্কায় তারা ভোটকেন্দ্রে  যেতে বিরত থাকতেন।

নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৫৯৯ এবং পুরুষ ১১ হাজার ৩৯৬ জন। তবে, স্থানীয় নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য এবং উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন পুরুষদের ভোটে। ইতোমধ্যে নারীদের পর্দার বিধান বজায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আসন্ন নির্বাচনে নারীদের ভোটকেন্দ্রে  আনতে মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ সচেতন নাগরিকদের নিয়ে নানা সভা ও সমাবেশ করছে জেলা প্রশাসন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট প্রদান ধর্মের সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়। নাগরিক অধিকার আদায় এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব।’  তিনি ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দূর করে নারীদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, আমি এখানে যোগদানের পরই জানতে পারি, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট দেন না।  এর আগে কয়েকবার তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। আমাদের এখনো চেষ্টা রয়েছে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর। বিশেষ করে প্রার্থীদের মাধ্যমে হলেও নারীদের কেন্দ্রমুখী করা এবং ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা। যাতে নারীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

Advertisements

 তবে ভোট না দিলেও সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা এবং পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ক্ষেত্রেই বিচরণ রয়েছে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীদের। এবারের নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বিষয়ে সংরক্ষিত সদস্য হাজেরা বেগম বলেন, ‘সময় বদলেছে। এখন নারীরা আগের চেয়ে সচেতন। অনেক নারী ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে নারীদের সচেতন করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। আমিও চাই, নারীরা অধিকার প্রয়োগ করুক।’ দীর্ঘদিনের এই সামাজিক বাস্তবতা বদলে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যাবে কিনা সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisements