বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
নারী

এশিয়ার ধনী নারীদের মুকুটে চীন–ভারতের দাপট

richest woman

এশিয়ার শীর্ষ ধনী নারীদের তালিকায় আবারও আধিপত্য দেখাল চীন ও ভারত। ফোর্বস-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ পাঁচ ধনী নারীর মধ্যে চারজন চীনা এবং একজন ভারতীয়। এই পাঁচ নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি—যা এশিয়ায় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার শক্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

চীন–ভারতের শক্তিশালী প্রভাব

এই তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথাগত পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি ওষুধ, প্রযুক্তি, অ্যালুমিনিয়াম ও আবাসন খাতে নারীরা নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে শীর্ষে পৌঁছাচ্ছেন।

শীর্ষে ভারতের সাবিত্রী জিন্দাল

এশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী হলেন ভারতের সাবিত্রী জিন্দাল। তিনি জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপারসন। স্টিল, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট ও অবকাঠামো খাতে বিস্তৃত এই গ্রুপের দায়িত্ব তিনি নেন ২০০৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদ ৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে তার সম্পদ ৩ শতাংশ বেড়েছে।

চীনের চার প্রভাবশালী নারী

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঝেং শুলিয়াং চায়না হংকিয়াও গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন। বিশ্বের অন্যতম বড় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার।

Advertisements

তৃতীয় স্থানে আছেন ঝং হুইজুয়ান—একজন সাবেক রসায়ন শিক্ষক, যিনি নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন হ্যানসোহ ফার্মাসিউটিক্যাল। মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে শুরু করা তাঁর কোম্পানি আজ ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরি করছে। তাঁর সম্পদ ১৯.৯ বিলিয়ন ডলার, আর গত বছরে তা বেড়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন হংকংয়ের কং সিউ-হিং। তিনি সান হাং কাই প্রোপার্টিজের বড় শেয়ারহোল্ডার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৮.১ বিলিয়ন ডলার।

পঞ্চম স্থানে আছেন ঝু কুনফেই ও তার পরিবার। একসময় কারখানার শ্রমিক থাকা ঝু কুনফেই আজ লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা। অ্যাপল, স্যামসাং, টেসলা ও বিওয়াইডির মতো প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে তার কোম্পানি। তাঁদের সম্পদ ১৭.১ বিলিয়ন ডলার।

শীর্ষ পাঁচের বাইরেও শক্ত অবস্থান

এছাড়াও চীনের ফ্যান হংওয়েই (৭.৪ বিলিয়ন ডলার) এবং উ ইয়াজুন (৬.৮ বিলিয়ন ডলার) বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী ধনী নারী হিসেবে পরিচিত।

এই তালিকা প্রমাণ করে এশিয়ায় নারীরা মেধা, পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে চীন ও ভারত এ ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে নারীনেতৃত্বের শক্ত ঘাঁটি।

Advertisements