বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
নারী

খাবারের ছবিতে দেশের গল্প: আন্তর্জাতিক ফুড ফটোগ্রাফিতে বাংলাদেশি রোয়েনা মাহজাবীন

prothomalo-bangla_

বাংলাদেশের খাবার, ঐতিহ্য আর স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দী করে আন্তর্জাতিক ফুড ফটোগ্রাফি কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন রোয়েনা মাহজাবীন। ঢাকা ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমালেও তার ছবির ভেতর বারবার ফিরে আসে বাংলাদেশের রান্না, রং, বাসনকোসন ও সংস্কৃতি।

২০১৯ সালে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান রোয়েনা। দেশ ছাড়ার সময় রেখে যেতে হয় বহু প্রিয় জিনিস—গাছপালা, পুরোনো বাসন, বন্ধুদের আড্ডা। সঙ্গে নেন ক্যামেরা আর ছবি তোলার দীর্ঘদিনের শখ। নতুন দেশে সেই শখই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে পরিচয়ের মাধ্যম।

রোয়েনার ফুড ফটোগ্রাফির শুরু নিজের রান্নাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের আগ্রহ থেকে। ২০১২–১৩ সাল থেকে নিয়মিত ছবি তুলছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাজ নজর কাড়ে অনেকের। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ঢাকার একাধিক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। যদিও তখনো পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।

২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরের একটি আন্তর্জাতিক গোরমে ম্যাগাজিনে বাংলাদেশি খাবারের রেসিপি ও ছবি প্রকাশের সুযোগ পান রোয়েনা। শর্ত ছিল—খাবারের নাম ও পরিচয় থাকবে বাংলাদেশি। সেই ম্যাগাজিনে জিলাপি, মোয়া ও রসমালাইয়ের মতো দেশি মিষ্টান্নের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পাঠকের নজর কাড়ে। বিশেষভাবে আলোচিত হয় সাদা শাড়ি ও লাল চুড়ি পরা এক বাংলাদেশি নারীর হাতে রুপালি পাত্রভরা জিলাপির ছবি।

Advertisements

বর্তমানে রোয়েনা কানাডার সাউথ অ্যালবার্টা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নারী, যারা ঘরে বসেই ফুড ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলছেন। মুঠোফোন দিয়েও ফটোগ্রাফি শেখার সুযোগ থাকায় অনেকেই সহজে যুক্ত হতে পারছেন।

রোয়েনার মতে, খাবারের ছবি কেবল নান্দনিকতা নয়—এটি ইতিহাস সংরক্ষণের এক ধরনের দলিল। শর্ষে ইলিশ বা রসমালাইয়ের মতো খাবারের ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতির সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে। রোয়েনা মাহজাবীনের স্বপ্ন—বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় হোক তার খাবারের স্বাদ, গল্প আর ছবির মাধ্যমে।

Advertisements