বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
নারী

ইরানে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স অনুমোদন

irani_motorcycle

ইরানে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও বাস্তব বাধার অবসান ঘটেছে। নতুন এক সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটিতে নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা ইলনা বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ইরানের ট্রাফিক আইনে নারীদের মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ না থাকলেও বাস্তবে নারী আবেদনকারীদের লাইসেন্স দেওয়া হতো না। ফলে বহু নারী বাধ্য হয়ে লাইসেন্স ছাড়াই দুই চাকার যান চালাতেন। এতে করে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে তারা দায়ী হতেন, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনি সুরক্ষা পেতেন না।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন যা জানুয়ারির শেষ দিকে দেশটির মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেবে এবং সফল প্রার্থীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদান করবে।

সরকারি এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমদিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারী।

Advertisements

তবে অনেক নারীর মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতার তুলনায় অনেক দেরিতে এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্মী সাইনা জানান, তিনি গত ছয় মাস ধরে স্কুটারে করে অফিসে যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, “এই আইন এখন আসছে, কিন্তু নারীরা তো অনেক আগেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। আমার কাছে এটা সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাও নয়।”

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের ওপর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জনসমক্ষে নারীদের মাথা ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়, যা মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব বিধিনিষেধ অমান্য করে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়তে থাকে।

বিশেষ করে ২০২২ সালে নৈতিক পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর নারীদের স্বাধীনতা ও অধিকার দাবিতে দেশজুড়ে যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার পর থেকেই রাস্তায় নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর দৃশ্য আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। অনেকের মতে মোটরসাইকেল চালানো নারীদের জন্য শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং এটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন নতুন এই সিদ্ধান্ত নারীদের দৈনন্দিন চলাচল ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ সহজ করবে। যদিও এটি ইরানে নারীদের অধিকার নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সব সমস্যার সমাধান নয় তবুও এটিকে একটি প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।

Advertisements