বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
নারী

সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের ইতিহাস

WhatsApp Image 2026-01-26 at 12.42.21 AM

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) প্রথমবার সাফ ফুটসাল আয়োজন করল। এক সঙ্গে নারী ও পুরুষ সাফ ফুটসাল অনুষ্ঠিত হলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। পুরুষরা ব্যর্থ হলেও নারী দল সাফল্য তুলে নিয়েছে। প্রথমবারেই সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়েছে নারী ফুটসাল বাংলাদেশ। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি ফ্লোরে রেখে মাসুরা, কৃষ্ণা, সুমাইয়া, সাবিনারা আইকনিক ভঙ্গিতে আনন্দ করেছেন।

বাংলাদেশের নারী ফুটসাল গঠিত হয়েছে ফুটবলারদের নিয়ে। ফুটসালের মুল শক্তি-ই হচ্ছে সাফ জয়ি ফুটবল খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশ যখন প্রথমবার সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেখানে অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা খাতুন। পরের বার সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সেবারও অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা খাতুন এবং সাবিনাদের সঙ্গে যারা সাফে খেলেছেন তারা অনেকেই ইংশি কোচ পিটার বাটলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া ফুটবলাররা ফুটসালে যোগ দিয়েছিলেন। সাফ ফুটসালে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনের কৃতিত্ব মুলত সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণা, সুমাইয়া, নীলাদের। সাফ জয়িদের সাথে বাইরের খেলোয়াড় যাদেরকে নেয়া হয়েছে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলেছেন। ফুটসালে নজর কাড়া পারফরম্যান্স করেছেন গোলরক্ষক স্বপ্ন আক্তার ঝিলি। ইরানী কোচ সাঈদ খোদাবাইমি পুরুষ ও নারী দলের দায়িত্ব পালন করেন।

ফুটসালে বাংলাদেশের গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচ ছিল ভারতের বিপক্ষে, জয় পেয়েছে ৩-১ গোলে। সাফ নারী ফুটসালে লিগ পদ্ধতির শেষ খেলায় গতকাল বাংলাদেশ ১৪-২ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শুধু ১টি ম্যাচ ড্র (৩-৩) হয়েছে সেটি ভুটানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশ হয়ত ১ ম্যাচ হাতে রেই শিরোপা স্বাদ পেতো। শেষ দিনের রঙ ছড়ানোর আনন্দটা সাবিনাদের কাছে অন্যরকম। তাই হয়ত শেষ ম্যাচের পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য শেষ খেলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১ পয়েন্ট। কিন্তু পাত্তাই দেয়নি প্রতিপক্ষ মালদ্বীপকে। পাত্তা দেয়ার মতো দল ছিল না মালদ্বীপ। এই দেশটি নারী ফুটসালের কোনো ম্যাচই জিতেনি।

সাফ অঞ্চলের ৭ দেশ বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপকে নিয়ে আয়োজিত নারী সাফে মালদ্বীপ ৬ ম্যাচেই হেরেছে। সবচেয়ে বেশি গোল (৪৪) হজম করেছে মালদ্বীপের নারীরা। সাবিনারাও কাল ধরে নিয়েছিলেন সহজ জয় তুলে নেবে। আতঘাতী গোলে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। মাসুরা পারভিনের ভুলে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেলেও ফিরতে বেশি সময় লাগেনি। দুটি হ্যাটট্টিক করেছে, দুর্দান্ত খেলেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি ৪ গোল করেছেন। লিপি হ্যাটট্টিক করেছেন। প্রতি ম্যাচে ভালো খেলেছেন কৃষ্ণরা রানী সরকার, তিনি কাল ২ গোল করেছেন। এছাড়াও মাসুরা, সুমাইয়া, নীলা, মেহেনূর আক্তার গোল করেন। সাবিনা ১৪ গোল করে ফুটসালে শীর্ষ গোলদাতা হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চা গোলদাতা হয়েছেন কৃষ্ণা রানী সরকার (৭ গোল)। সাবিনা ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেও ৮ গোল করে সর্বচ্চো গোলদাতা হয়েছিলেন এবং সাফের সেরা খেলোয়াড়েরও পুরস্কার পেয়েছিলেন।

Advertisements

নারী সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের খেলাগুলো
বাংলাদেশ ৩-১ ভারত
বাংলাদেশ ৩-৩ ভুটান
বাংলাদেশ ৩-০ নেপাল
বাংলাদেশ ৬-৩ শ্রীলঙ্কা
বাংলাদেশ ৯-১ পাকিস্তান
বাংলাদেশ ১৪-২মালদ্বীপ
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন, ভারত রানার্সআপ, ভুটান তৃতীয়, নেপাল চতুর্থ, পাকিস্তান পঞ্চম, শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ, মালদ্বীপ সপ্তম হলো।

Advertisements