বিবাহবার্ষিকীর উপহার নয়, অভিনেত্রীর হাতে উঠল ডিভোর্স নোটিশ

বিয়ের ১৫ বছর পূর্তিতে উপহার পাওয়ার কথা থাকলেও বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির হাতে উঠেছে ডিভোর্সের নোটিশ—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ এনে নতুন করে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সেলিনা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাদের বিবাহবার্ষিকীর দিন স্বামী তাকে স্থানীয় পোস্ট অফিস থেকে ‘উপহার’ আনতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় বিচ্ছেদের নোটিশ।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের অন্ধেরি আদালতে পিটার হাগের বিরুদ্ধে ডিভোর্স মামলা করেন সেলিনা। সেখানে তিনি মাসিক ভরণপোষণ, সন্তানের হেফাজত এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবি তোলেন।
সেলিনার আইনজীবী জানিয়েছেন, পিটার হাগ আরও আগে অস্ট্রিয়ার আদালতে ডিভোর্সের মামলা করেছিলেন। ভিয়েনায় থাকা কয়েকটি সম্পত্তি সেলিনার অজান্তে বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পরই এই আইনি লড়াই আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই মামলায় পিটার দাবি করছেন, ওই সম্পত্তিগুলোর ওপর সেলিনার কোনো অধিকার নেই।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পিটার তাদের দাম্পত্য কলহের জন্য পুরো দায় সেলিনার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। যদিও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেলিনা, তাতে রাজি হননি পিটার।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সেলিনা আরও লেখেন, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর গভীর রাতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তার ভাষায়, পুরো ঘটনাটি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত মানসিক নির্যাতনের অংশ। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু টাকা নিয়েই তাকে ভারতে ফিরে আসতে হয় এবং সেখান থেকেই নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তিনি।
সেলিনা বলেন, তিনি সব সময় আইনগত পথেই এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন, যেখানে সন্তানদের কল্যাণই ছিল একমাত্র অগ্রাধিকার। কিন্তু তার বদলে তার বিবাহ-পূর্ব সম্পত্তি নিয়ে দাবি এবং নানা কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল বিচ্ছেদের পরও তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা খর্ব করা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক রাতের মধ্যেই তাকে একজন মা হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য করা হয়, যদিও সন্তানদের প্রধান যত্নদাতা তিনি নিজেই।
গত নভেম্বরে সেলিনা আদালতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা ভরণপোষণ দাবি করেন। পাশাপাশি পিটার হাগ যেন তার মুম্বাইয়ের বাসভবনে প্রবেশ করতে না পারেন, সে আবেদনও জানান। একই সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় থাকা তাদের তিন সন্তানের হেফাজত এবং স্বামীর কারণে কাজ হারিয়ে হওয়া ক্ষতির জন্য ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সেলিনা জেটলি ও পিটার হাগের বিয়ে হয়। ২০১২ সালে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। পাঁচ বছর পর যমজ সন্তানের জন্ম হলেও হৃদরোগজনিত জটিলতায় তাদের একজন মারা যায়।



