বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
নারী

সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ, উদ্বেগ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির

Untitled-3

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক ৭১টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।

সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ১০৯ জন, যা শতাংশের হিসাবে ৪ দশমিক ২৪। নারী-পুরুষের জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গে এই চিত্রের কোনো মিল নেই বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল থেকেই কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি যে দলগুলো প্রকাশ্যে তাদের নেতৃত্বে ৪০ শতাংশ নারী থাকার দাবি করে, তাদের পক্ষ থেকেও এবার কোনো নারী প্রার্থী দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০৯ জন নারীর মধ্যে ৭২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী, আর বাকি ৩৭ জন লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মতে, ক্ষমতার কাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিটি ধাপে নারীকে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগোতে হয়। যদিও অর্থনীতি ও উন্নয়নে নারীর অবদান সমাজ ও রাষ্ট্রে অনেকটাই স্বীকৃত, রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ততটা গুরুত্ব পায়নি।

Advertisements

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমাজে বিদ্যমান নারীবিদ্বেষী মানসিকতা ও পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে অনেক নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতেও দ্বিধা ও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন। এটি শুধু বিদ্যমান বাস্তবতার প্রতিফলনই নয়, বরং সেই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো টিকিয়ে রাখার এক ধরনের কৌশল বলেও মনে করে সংগঠনটি।

নির্বাচন ও রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। তাদের মতে, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীর সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ৩০০ আসনে এবার মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৭২৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

Advertisements