বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

আশ্রয়ের খোঁজে হাসপাতালে, সেখানেই দুই আনসারের হাতে লাঞ্ছিত নারী

Untitled-3

মানিকগঞ্জ শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তার আশায় গিয়ে এক নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর দুই সদস্য ওই নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেছে।

রোববার গভীর রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আটক আনসার সদস্যরা হলেন— টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন (৩২) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আবু সাঈদ (২৬)। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে অটোরিকশায় করে মানিকগঞ্জের বেতিলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। তখন নিরাপদ আশ্রয়ের কথা ভেবে তারা কাছের সরকারি হাসপাতালে যান।

Advertisements

হাসপাতালের ফটকে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য তাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে নিচতলায় বসতে বলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে ওই দুই আনসার সদস্য এসে দম্পতির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেন।

একপর্যায়ে নারীর স্বামীকে নিচতলায় রেখে তার স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর একজন আনসার নিচে নেমে আসেন, পরে অন্যজনও উপরে যান।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও স্ত্রী ফিরে না আসায় তিনি উপরে যেতে চাইলে এক আনসার সদস্য তাকে বাধা দেন। পরে তার স্ত্রী নিচে নেমে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাকে দুজন মিলে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ভোরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, “নিরাপত্তার আশায় আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু যাদের দায়িত্ব ছিল আমাদের রক্ষা করা, তারাই এমন পাশবিক কাজ করবে—কখনো ভাবিনি। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত দুই সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Advertisements