বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
নারী

নতুন হকি নক্ষত্র ডনুচিং মারমার উত্থান

Untitled-4

ডনুচিং মারমা সুইহ খাগড়াছড়ির গুইমারা নতুনপাড়া থেকে উঠে আসা এক অদম্য কিশোরী, যিনি দেশের মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দলে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। হকির স্টিকে চড়ে প্রতিকূলতা জয় করে এই পাহাড়িকন্যা দেশি হকির নতুন আলো হয়ে ওঠেছেন। তবে একসময় ২০২৩ সালে ফুটবল ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়ে তিনি আবার কৃষক বাবার ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। তারপরও মন থেকে খেলার নেশা কখনও কমেনি, বরং নতুন সুযোগের খোঁজে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

ফুটবল থেকে হকিতে পথচলা

ডনুচিংয়ের ফুটবল স্বপ্নের দিনগুলো ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল। প্রথমে ট্রায়ালে ব্যর্থ হলেও, ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি হকিতে হাতেখড়ি নেন। এক প্রশিক্ষক হাত দেন স্টিক আর বল, এবং সেই ট্রায়ালেই তিনি ভালো করেন। এরপর ঢাকার বিকেএসপিতে চার দিনের ক্যাম্প শেষে ভর্তি হন। এক বছরের মধ্যেই অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলে সুযোগ পান এবং ২০২৫ সালের এশিয়ান কাপে ব্রোঞ্জ জেতে দেশের নজর কাড়েন।

নদী ও চোখের গল্প

Advertisements

ডনুচিংয়ের পরিবার কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তিনি বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন। হকির সাফল্য দেখে এখন বাবা-মাও মুগ্ধ। ডনুচিং বলেন, “বাসায় এসে সময় নষ্ট করার কী দরকার। ভালো খেলছো, বাড়িতেও নিশ্চয়ই ঠিক আছো।” কথা বলতে বলতে তাঁর চোখে জল জমে যায়—যা বোঝায়, এই চোখের পানি দিয়েই তিনি আরও দূরে যেতে চান।

বিকেএসপির দিনগুলো

ডনুচিংয়ের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে। ভাষাগত সমস্যার কারণে প্রথমদিকে তার কঠিন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তিনি জানান, “প্রথমে অনেক কিছুই বোঝা যেত না, বাসায় ফোন দিয়ে কান্না করতাম। একবার বাড়ি গিয়ে আর আসিনি। পরে মামার মাধ্যমে এখানে আসা সম্ভব হয়। এখন এটিই আমার দ্বিতীয় ঘর।”

পাহাড়ের মেয়েদের প্রভাব

ডনুচিং মনে করেন, এখন পাহাড়ের মেয়েরা শুধু ফুটবলে নয়, হকিতেও স্বপ্ন দেখছে। তবে মাঠের অভাব, স্টিক-বল সমস্যা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এটি সহজ নয়। তিনি বলেন, “এতো বাধা থাকলেও মেয়েরা হকির স্টিক-বলে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। এরা আগামীতে লাল-সবুজের হকির নেতৃত্ব দেবে।”

আগামীর স্বপ্ন

ডনুচিং মারমা সুইহের লক্ষ্য স্পষ্ট—হকিতে থাকতে চান যতদিন সম্ভব, এবং তার সর্বোচ্চ স্বপ্ন হলো হকির বিশ্বকাপে খেলা। তিনি বলেন, “এখন আমার একটাই স্বপ্ন—হকির বিশ্বকাপ। এটি বড় মনে হলেও আমি বিশ্বাস করি, সম্ভব।”

ফুটবলে মনিকা-ঋতুপর্ণা চাকমারা দেশের খ্যাতি বাড়াচ্ছেন, ঠিক তেমনি হকিতে ডনুচিং মারমা সুইহ দেশের জন্য নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবেন—এমন স্বপ্ন আমরা সকলেই দেখতে পারি।

Advertisements