বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ, পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক

Untitled-6

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলের প্রতি ‘অবিশ্বাস ও অনাস্থা’ জানিয়ে রোববার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি তোলেন।

এর একদিন আগে শনিবার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তবে তাজনূভা জাবীন তার পোস্টে স্পষ্ট করেন, তিনি এই মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা জাবীন লেখেন, অনেকেই ভাবছেন জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পেছনে ঐতিহাসিক বা নারী বিষয়ক কারণেই তার আপত্তি। তবে তার ভাষায়, এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো—যে প্রক্রিয়ায় এই জোট গঠিত হয়েছে। এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনী জোট বলা হলেও তিনি মনে করেন, এটি ছিল পরিকল্পিত এবং ধাপে ধাপে সাজানো।

তিনি অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থীদের মনোনয়ন ও আসন সমঝোতার মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে। যদিও তিনি দল ছাড়লেও এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানান।

Advertisements

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তাজনূভা বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, মধ্যপন্থা, নারী ও বিভিন্ন জাতিসত্তার রাজনীতির কথা বলেছে এবং সেই দর্শন ধারণ করা অল্প কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন। তিনি নিজেকে দলের একজন ফাউন্ডার সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তবে এসবের পরও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া তার সামনে আর কোনো ‘সম্মানজনক অপশন’ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

নাম উল্লেখ না করে পোস্টের এক জায়গায় তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ‘মাইনাসের রাজনীতি’ চলছে, যেখানে তারা নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকায় দেশের জন্য নতুন একটি মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি গড়ে তুলতে পারবে না।

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তাজনূভা জাবীন বলেন, এনসিপি যদি নিজের স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারত, তাহলে ভবিষ্যতে যে কারও সঙ্গে জোটে যেতে সমস্যা হতো না। কিন্তু প্রথম নির্বাচনেই কেন এমন জোটের প্রয়োজন হলো—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে অন্য সব রাজনৈতিক অপশন বাদ দেওয়া হয়েছে, যেন জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া আর কোনো পথ না থাকে। তার মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং পরিকল্পনা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনকে রাজনৈতিক কৌশলের নামে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে এনসিপিকে ‘জামায়াতের আরেকটি দোকান’ বলা হয়, সেখানে নিজের রাজনৈতিক স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কেন জামায়াতকে বেছে নেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাজনূভা জানান, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পদত্যাগের কথা ভাবলেও শনিবার সবাই নিশ্চিত করেছে যে জোট চূড়ান্ত হয়েছে। এরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, তার পদত্যাগের মূল কারণ জোট নয়, বরং যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে সেই প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা। দল গঠনের শুরুতেই আগে সংসদে যাওয়ার চিন্তা এবং কয়েকজন এমপিকে কেন্দ্র করে সংগঠন বড় করার ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোট না চাওয়া মানে বিএনপির সঙ্গে জোট চাওয়া নয় এ কথাও স্পষ্ট করেন তাজনূভা জাবীন। তিনি বলেন, তার রাজনীতি সংস্কার ও নতুন সংবিধানের পক্ষে। তিনি চেয়েছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে গিয়ে একটি স্বতন্ত্র, তৃতীয় জোটের নির্বাচন।

তাসনিম জারার মতো তিনিও সমর্থকদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেবেন বলে জানান। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সবশেষে তিনি বলেন, জুলাইয়ে রাজপথে নামা ছিল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এবং নতুন কিছুর জন্য। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের শূন্য জায়গা পূরণের চেষ্টায় তিনি থাকবেন।

Advertisements