মানবিক উদ্যোগে আশার আলো, সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে স্বাবলম্বী এক নারী

অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছেন গাংনী উপজেলার মানবিক সমাজসেবী যুবক টুটুল মিয়া। তার উদ্যোগে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী এখন আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য নন নিজের শ্রমে সম্মানজনক জীবনের পথে হাঁটছেন তিনি।
কখনো মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, কখনো অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করে চলছিল ওই নারীর জীবন। দিন শেষে ক্লান্ত শরীর আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে কাটত তার দিন। এমন সময় পাশে দাঁড়ান গাংনী উত্তরপাড়ার তরুণ সমাজসেবক টুটুল মিয়া।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে নীরবে কাজ করে আসা টুটুল মিয়া শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ওই নারীকে স্বাবলম্বী করতে সিদ্ধ ডিমের ছোট একটি ব্যবসার উদ্যোগ নেন। নিজের অর্থে ডিম, ঝুড়ি ও প্রাথমিক পুঁজি সরবরাহ করে শুরু করান এই ক্ষুদ্র ব্যবসা, যা এখন ওই নারীর আত্মসম্মান ও জীবিকার প্রধান উৎস।
বর্তমানে তিনি ব্রয়লারের সিদ্ধ ডিম ১০ টাকা এবং হাঁসের সিদ্ধ ডিম ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। প্রতিটি ডিম বিক্রি থেকে পাঁচ টাকা লাভ সরাসরি ওই নারীর হাতে তুলে দিচ্ছেন টুটুল মিয়া। এই উদ্যোগের নাম তিনি দিয়েছেন ‘কাজের বিনিময়ে সহায়তা’। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম বিক্রি হওয়ায় ধীরে ধীরে তাঁর একটি স্থিতিশীল আয়ের পথ তৈরি হচ্ছে।
গাংনী উত্তরপাড়াস্থ মজিরুদ্দিনের বাড়ির সামনে পাকা সড়কের পাশে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই সিদ্ধ ডিম বিক্রি। সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম কিনে একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন টুটুল মিয়া ও স্থানীয় সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন, “এখন আর কারও বাড়িতে কাজ করতে হয় না। নিজের পরিশ্রমে খেতে পারছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় সুখ। আল্লাহ টুটুল মিয়ার ভালো করুন।” কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, “টুটুল মিয়ার এই উদ্যোগ শুধু একজন নারীর জীবন বদলায়নি, বরং সমাজে মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্যে সিদ্ধ ডিম পাওয়ায় এলাকাবাসীও উপকৃত হচ্ছে।”ভলকানাইজিং ব্যবসায়ী সাহাবুল ইসলামও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে টুটুল মিয়া বলেন, “অসহায় মানুষদের একটু সুযোগ করে দিলে তারাই নিজেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সাহায্য নয়, আমি চাই কর্মসংস্থান—যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”



