বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাপের মুখে: আইরিন খান

IMG-20251223-WA0030

নির্বাচনের প্রাক্কালে জনরোষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা–বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ আইরিন খান। তাঁর মতে, সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে জনরোষ উসকে দেওয়া যেকোনো সময়েই বিপজ্জনক, আর বাংলাদেশ যখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন এর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইরিন খান এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, আইরিন খান জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদকের ওপরও হামলা চালানো হয়। এসব বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর। তিনি জনসম্মুখে গুলিতে নিহত হন বলে জানা যায়।

আইরিন খান বলেন, একজন প্রভাবশালী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার হত্যাকাণ্ড এবং তাঁকে মৃত ঘোষণার পর সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে যে সংগঠিত সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা জানান। গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisements

তিনি আরও বলেন, এসব হামলা হঠাৎ করে ঘটেনি। দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যম ও শিল্পের স্বাধীনতা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ারই ফল এটি। গত এক বছরে বাংলাদেশে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি চাপের মুখে পড়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে শতাধিক সাংবাদিককে হত্যা, সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের সরকারের মতোই অন্তর্বর্তী সরকার দায়মুক্তির এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এর ফলে হামলা ও হুমকির ঘটনা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হচ্ছে।

Advertisements