বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

শেষ বয়সে আশ্রয়হীন নিগারন নেছা

Untitled-2

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জমিজমা দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার নাতির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধার নাম নিগারন নেছা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িছাড়া হওয়ার পর তিনি কখনো প্রতিবেশীর বাড়ির বারান্দা, কখনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, নিগারন নেছা দীর্ঘদিন ধরে নাতি লিজন মিয়ার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা যান। তাদের বড় ছেলে মাহবুব হোসেন মারা যান প্রায় ১০ বছর আগে। ছোট ছেলে মারা যায় মাত্র দুই বছর বয়সে। চার মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর সংসারে থিতু হয়েছেন। এ অবস্থায় মাহবুব হোসেনের একমাত্র ছেলে লিজন মিয়া ধীরে ধীরে পরিবারের সব সম্পত্তি নিজের দখলে নেন।

সম্প্রতি জমিজমা ও সম্পদের ভোগদখল নিয়ে নিগারন নেছার সঙ্গে নাতি লিজনের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে নাতি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisements

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিগারন নেছা। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন,

‘এই ঘরেই আমি সংসার করেছি, সন্তান মানুষ করেছি। আজ সেই ঘরেই আমার ঠাঁই নেই। জমিও আমার নামে, তবু কেউ মানে না। এই বয়সে এসে পথে পথে ঘুরতে হবে, কোনো দিন ভাবিনি।’

প্রতিবেশী মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘দাদির প্রতি লিজন মিয়ার এমন আচরণ পুরো গ্রামের জন্য লজ্জার। এ বয়সে একজন মানুষকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া অমানবিক।’

ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা, অস্থায়ী আশ্রয় ও আইনি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

নিগারন নেছার মেয়ের স্বামী সদর আলী বলেন, ‘দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিগারন নেছার নিরাপদ আশ্রয়, ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শেষ বয়সে যেন তাকে আর পথে পথে ঘুরতে না হয়।’

Advertisements