বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

যাতায়াতের পথ বন্ধ করেছেন ভাই, মইই ভরসা প্রতিবন্ধী নারীর

Untitled-4

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের সিরাজনগর নয়াচর উত্তরপাড়ায় এক প্রতিবন্ধী নারী তার নিজের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিজের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবার বলছে, এই অমানবিক কাজটি করা হয়েছে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই। প্রতিবন্ধী কামরুন্নাহার প্রায় এক বছর ধরে মই ভর করে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে বাড়ির বাইরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যথায় পুরোপুরি গৃহবন্দি হয়ে পড়েন।

কামরুন্নাহার পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। এক বছরের বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে তার দুই পা বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয় তাকে। বিয়ে না হওয়ায় এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি তার বড় বোন তাছলিমা বেগমের সঙ্গে সেলাই কাজ করেন।

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবা-মা জীবিত থাকাকালে বোন দুজনকে দেড় শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে বড় ভাই কামরুজ্জামান কামাল ওই জমির ওপর নজর দেন। অভিযোগ অনুসারে, দখলের চেষ্টা চালাতে তিনি গত প্রায় এক বছর ধরে বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এতে কামরুন্নাহার পুরোপুরি গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম বলেন, “মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ভাই আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। প্রায় এক বছর ধরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ। আমরা বন্দির মতো জীবন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েও সমাধান পাইনি।”

Advertisements

কামরুন্নাহার বলেন, “প্রতিবন্ধী হলেও কখনো হাল ছাড়িনি। কিন্তু ভাই আমার একমাত্র পথ বন্ধ করেছে। মই ভরসা করে বাইরে যেতে হয়, এতে আমার জীবন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এমনভাবে বাঁচার চেয়ে মরাই ভালো মনে হয়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী মাজহারুল ইসলাম পলাশ এই ঘটনাকে “অত্যন্ত অমানবিক” উল্লেখ করে বলেন, “কারো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অধিকার নেই। সালিশের চেষ্টা করেছি, কিন্তু অভিযুক্ত কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।”

অভিযুক্ত কামরুজ্জামান কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার জায়গায় তারা ঘর তুলেছে। আদালতও তাদের ওই জায়গা ছাড়তে বলেছে। আমি প্রতিবন্ধী বোনকে ভরণপোষণসহ আমার সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু সে রাজি হয়নি।”

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, “কারো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অধিকার নেই। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত, আদালতে মামলা চলমান। তবে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো পক্ষ মানছে না।”

এলাকাবাসী মানবিক এই সংকট নিরসনে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিবন্ধী কামরুন্নাহার ও তার বোন অন্য সবার মতো স্বাধীনভাবে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারেন।

Advertisements