২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

নারীদের সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ‘সলভওয়্যার’

Untitled-2

রাস্তায় বের হলে প্রায়ই যৌন হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে হয় নারীদের। সম্প্রতি ঢাকাগামী একটি স্লিপার কোচে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হয়। এমন ‍পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নারীদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে এসেছে কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী। তাঁদের উদ্ভাবিত ডিভাইসের নাম ‘সলভওয়্যার’।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুহিতা রহমান, নাজিফা নওয়ার ও ইউনুস কবির এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দলটি ডিভাইসটি তৈরি করেছে। ডিভাইস উদ্ভাবনের আগে তাঁরা শাবিপ্রবির ৩০০ নারী শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালান। সেখানে দেখা যায় ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, ৬৮ শতাংশ নারী রাতে একা চলাফেরা করতে ভয় পান, ৯০ শতাংশ নারী মনে করেন সহজে ব্যবহারযোগ্য আত্মরক্ষামূলক ডিভাইস জরুরি, ৭৫ শতাংশ সচেতনতার পাশাপাশি বাস্তব প্রযুক্তিগত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

কী আছে ‘সলভওয়্যারে’

দলটির উদ্ভাবিত সেফটি ডিভাইসটিতে রয়েছে ৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার অ-প্রাণঘাতী অ্যান্টি-র্যাপ গ্লাভস। বিপদের মুহূর্তে এক ক্লিকেই—

আক্রমণকারীকে সাময়িকভাবে কাবু করার জন্য বৈদ্যুতিক শক, জোরালো অ্যালার্ম, জিপিএস–ভিত্তিক অবস্থানসহ জরুরি বার্তা (এসওএস)

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হবে। বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ব্যবহারকারীর জরুরি যোগাযোগ নম্বরে পৌঁছে যাবে।

Advertisements

ডিভাইসটির ব্যবহার নিয়ে দলটির সদস্য মাজেদুল ইসলাম বলেন, “হাতে পরে রাখা ডিভাইসটিতে এক ক্লিকেই তিনটি সেফটি ফিচার সক্রিয় হয়ে যায়। জরুরি বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনেও পৌঁছায়।”

জরিপের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রুহিতা রহমান বলেন, “নারীরা প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। ৭১ শতাংশ অ্যালার্ম ও এসওএস ফিচার, আর ৬৫ শতাংশ অ-প্রাণঘাতী শক ফিচারের প্রশংসা করেছেন।”

দলটির সদস্য ইউনুস কবির বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ডিভাইস বানানো নয়, এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেক নারী নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবেন।” এই প্রকল্পটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনাও জানিয়েছে দলটি।

Advertisements