বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
নারী

শিশুর মুখের পুষ্টি কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই

dhakatoday1762334771cvfhd (1)

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে বরাদ্দ দুধ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচি’ চালু করে সরকার। প্রথম ধাপে ৩০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন করে প্রতি শিক্ষার্থীকে ২০০ মিলি দুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের অপুষ্টি দূর করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা। তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টারে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮২ জন হলেও প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত আরও ৩৮ জনের নাম যুক্ত করে মোট ১২০ জনের নামে দুধ তুলছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিয়ে সেই তালিকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জমা দিয়ে ডিলারের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। এমনকি গত ৬ সেপ্টেম্বর, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও সেদিনও শিক্ষার্থীদের নামে দুধ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকে। অথচ প্রতিবেদন পাঠানো হয় ১২০ জনের নামে। কিছু নাম নাকি স্থানীয় নয় এবং ওই শিক্ষার্থীরা কখনো বিদ্যালয়ে আসেইনি। বরাদ্দ দুধের বাড়তি অংশ শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন।

Advertisements

একজন অভিভাবক, রমজান আলী বলেন, “গত রোববার ৫৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, কিন্তু দুধ আনা হয়েছে ১১০ জনের নামে। বাকি দুধ শিক্ষকরা ব্যাগে করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।”

আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের সরকারি উদ্যোগকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে—এটি লজ্জাজনক।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উদয় চন্দ্র পাল বলেন, “গড়ে ৯০-৯৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুধ আসে এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বিতরণ করা হয়।”

তবে বাকি দুধের কী হয়, এ প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেননি। বন্ধের দিন দুধ তোলার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল আলম বলেন, “এই কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান জানান, “বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।”

Advertisements