বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
নারী

সেলুলয়েডে বেঁচে থাকা এক কিংবদন্তি—ঋত্বিক ঘটক

IMG-20251104-WA0015

আজ ৪ নভেম্বর, জন্মদিন সেই মানুষটির—যিনি বাংলা চলচ্চিত্রে শিল্পের মানে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, ঋত্বিক ঘটক।

১৯২৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন ঢাকায়, এক সাহিত্যনিষ্ঠ পরিবারে। কিন্তু জীবনের শুরু থেকেই তাঁর চারপাশে ছিল ভাঙন, দেশভাগের ক্ষত, মানুষের হারিয়ে যাওয়া মুখ, বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সেই ভাঙনের স্মৃতি পরবর্তীতে তাঁর সিনেমার মূল ভাষায় পরিণত হয়।ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা শুধুই গল্প নয়—তা ছিল সময়ের দলিল।

‘মেঘে ঢাকা তারা’-তে তিনি দেখিয়েছিলেন যুদ্ধোত্তর সমাজে নারীর বেঁচে থাকার ট্র্যাজেডি;‘সুবর্ণরেখা’-য় ফুটে উঠেছিল বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্তিত্বের লড়াই।

আর ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ তিনি যেন নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন জীবনের অনন্ত প্রবাহ।

Advertisements

তাঁর ক্যামেরা কখনও ছিল না সাজানো দৃশ্যের বন্দি, বরং তা ছিল সময়ের সাক্ষী।

প্রচলিত সিনেমার বাণিজ্যিক কাঠামো ভেঙে তিনি বানিয়েছিলেন প্রতিবাদের সিনেমা—যেখানে দেশভাগ মানে শুধু রাজনীতির ঘটনা নয়, বরং মানুষের মানসিক ভাঙন, হারানোর বেদনা, ও শেকড়হীনতার চিত্র।

আজ তাঁর জন্মদিনে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা স্মরণ করছেন সেই নির্মাতাকে, যিনি বাংলা সিনেমাকে শুধু বিনোদনের নয়, বরং মানবিক অনুভূতির এক তীব্র শিল্পভাষায় রূপ দিয়েছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ঋত্বিক ঘটক তাই কেবল একজন পরিচালক নন—তিনি এক অনির্বাণ প্রতীকের নাম, যে প্রতীক প্রতিবাদের, মানবতার, এবং হারানো স্বদেশের।

Advertisements