বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
ফ্যাশন

‘দুবাই ড্রেস’ – ১০ কেজি সোনা এবং ৯৮০ ঘন্টা

MixCollage-24-Oct-2025-10-14-AM-9502-2025-10-8685f4b971ce74edb2eb32a2791b7999-3×2

মানুষ সোনার তৈরি বিভিন্ন গহনাপত্র ব্যবহার । তবে শুধু গয়না নয় এবার পুরো পোশাকটাই তৈরি হলো খাঁটি সোনায়! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও সত্যি দুবাইয়ের একদল দক্ষ শিল্পী ৯৮০ ঘণ্টার নিরলস পরিশ্রমে বানিয়ে ফেলেছেন এক অনন্য সৃষ্টি যার নাম ‘দুবাই ড্রেস’।

এমন বিলাসবহুল পোশাক তৈরি হয়েছে প্রাচুর্যের দেশ দুবাইয়ে। শহরের নামের মতোই ঝলমলে এই পোশাক তৈরি হয়েছে একেবারে সোনায় মোড়া কারুকাজে। তাতে নেই একটিও কাপড়ের সুতো।

‘দুবাই ড্রেস’-এ ব্যবহার করা হয়েছে ২২ ক্যারাটের খাঁটি সোনা। পরিমাণ প্রায় ১০ কিলোগ্রাম। অর্থাৎ শুধুই সোনার দামই দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকা। ১০ গ্রামের সোনা যেখানে এক লাখ টাকার বেশি, সেখানে ১০ কেজির হিসাব করলে সহজেই বোঝা যায়। এই পোশাকের প্রকৃত মূল্য কতটা বিশাল হতে পারে সেটা আন্দাজ করা যায়। তবে এ তো শুধু সোনার দাম নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শিল্পীদের কারুকাজ, নকশা, এবং সৃজনশীলতার অনন্য ছোঁয়া।

দুবাইয়ের সংস্থা আল রামাইজান জানিয়েছে, এই পোশাক তৈরিতে শিল্পীদের লেগেছে টানা ৯৮০ ঘণ্টা। তৈরি হওয়ার পর পোশাকটির মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ১০.০৮ কিলোগ্রাম, যা ইতিমধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী সোনার পোশাক হিসেবে।

Advertisements

চার ভাগে বিভক্ত এই রাজকীয় পোশাক। ‘দুবাই ড্রেস’-এর রয়েছে চারটি অংশ। একটি শিরসজ্জা (মুকুট ও টায়রা), একটি লম্বা নেকলেস যা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নেমেছে, এক জোড়া কানের দুল আর একটি কোমরবন্ধ বা বেল্ট যার নাম রাখা হয়েছে হিয়ার। প্রতিটি অংশেই রয়েছে সূক্ষ্ম জালি কারুকাজ। কারুকাজের ওপর বসানো হয়েছে হিরে, চুনি, পান্না এবং ফিরোজা রঙের মিনাকারি নকশা।

ওজনের হিসেবে সবচেয়ে ভারী অংশটি হলো নেকলেস প্রায় ৮.৮ কেজি, মুকুট ও টায়রার ওজন ৩৯৮ গ্রাম, কানের দুলের ওজন ১৩৪ গ্রাম আর কোমরবন্ধের ওজন প্রায় ৭৩৮ গ্রাম।

এই পোশাকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ লক্ষ আরব দিরহাম যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা! আর যদি এটি অন্য দেশে বিক্রি হয়, তবে ট্যাক্স ও শুল্ক যুক্ত হয়ে দাম আরও অনেকটা বেড়ে যাবে।

‘দুবাই ড্রেস’ শুধু একটি পোশাক নয়। এটি দুবাইয়ের বিলাসিতা ও কারুশিল্পের প্রতীক। প্রতিটি ইঞ্চিতে ফুটে উঠেছে শিল্পীর যত্ন, ধৈর্য আর নিখুঁত কারুকাজের ছাপ। যেন সোনায় নয়, সময় আর মেধায় গড়া এক অনন্য শিল্পকর্ম।

ফেলুদা একবার বলেছিল, “সোনার কেল্লা মানে কি সোনা দিয়ে তৈরি?” কিন্তু ‘দুবাই ড্রেস’এর ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন আর উঠবে না! কারণ এখানে সত্যিই সোনায় মোড়া এক রাজকীয় পোশাক যা এক নজরেই প্রমাণ করে, বিলাসিতার সংজ্ঞা এখন নতুন করে লিখছে দুবাই।

Advertisements