Skip to content

২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সঙ্গী নির্বাচনের আগে যেসব বিষয় ভাববেন

জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে আমাদের জীবনে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এভাবেই একটা পর্যায়ে আমাদের জীবনে একজন জীবনসঙ্গী দরকার হয়। একজন সঙ্গী, যার সঙ্গে আপনি জীবনের বাকিটা সময় কাটাতে চাইবেন। কিন্তু যদি সঠিক সঙ্গী নির্বাচনে ভুল হয়, তবে তা হতে পারে বাকি জীবনের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। তাই সঙ্গী নির্বাচনের আগে একবার নয়, একশ বার ভাবুন। আর এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এমন কিছু টিপস জেনে রাখুন :

বাইরের সৌন্দর্য নয় অন্তরের সৌন্দর্য দেখুন

সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বড় যে ভুলটি হরহামেশা করি তা হলো, বাইরের চাকচিক্যে ভুলে যাই। বাইরের সৌন্দর্য চেয়েও অন্তরের সৌন্দর্য অনেক বেশি দামি। সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করতে হলে সবার আগে এই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।

আচার-আচরণ খেয়াল করুন

যে আপনার ওপর ভালোবাসার নামে জোর খাটাতে চাইবে, তার সঙ্গে আর যাই হোক, আপনি বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে পারবেন না। প্রত্যেকটি মানুষেরই আলাদা আলাদা পছন্দ রয়েছে। হঠাৎ করেই একজনের জন্য জীবনের প্রতিটি পছন্দ দূর করা সম্ভব নয়৷ এমনকী তার এমন আচরণে আপনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। আর এসব শর্ত মেনে যদি আপনি কাউকে জীবনসঙ্গী বানাতে চান, তবে সারাজীবন সুখে থাকাটা অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপারই হয়ে যাবে বটে।

স্বার্থপর এবং সন্দেহপ্রবণ কাউকে এড়িয়ে চলুন

যে আপনাকে যেকোনো তুচ্ছ ব্যাপারে সন্দেহ করবে, সে আপনার কাছের মানুষগুলোকে সহ্য করতে পারবে না। আত্মীয়, বন্ধু বা সহকর্মীর সঙ্গে কথা বললেও সে ভালোভাবে নেবে না। এমনকী আপনার জীবনসঙ্গী স্বার্থপর হলে আপনার পরিবারের থেকেও আপনাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইবে। ফলে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে, তাই আগে থেকেই এমন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার আগে ভালো করে ভেবে নিন।

সঙ্গী আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভরযোগ্য কি না দেখুন

উচ্চবিত্ত, পাওয়ারফুল কাউকে নয় বরং এমন কাউকে সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করুন যে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভরযোগ্য। আত্মবিশ্বাসী সঙ্গী যেকোনো সমস্যায় নিজেও যেমন স্ট্রং থাকতে পারবেন ,তেমনি আপনার কঠিন সময়েও ঠাণ্ডা মাথায় আপনার পাশে দাঁড়াতে পারবে। আর তাকে আপনি চোখ বন্ধ করে ভরসাও করতে পারবেন।

অত্যধিক নির্ভরশীলতায় বাড়তে পারে অশান্তি

জীবনসঙ্গী মানেই তো একে অন্যের ওপর নির্ভর করে অনায়াসে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেই নির্ভরশীলতার মাত্রা যদি অত্যধিক হয় তখন প্রতিমুহূর্তে সে আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তখন সারাক্ষণ সে আশা করবে যে, প্রতি ঘণ্টায় আপনি তার খোঁজখবর জানবেন এবং নিজের বিষয় তাকে আপডেট জানাবেন। কিন্তু কোনো কারণে আপনার আচরণে কোনো পার্থক্য হলে, সে যেমনটা আশা করছে, তেমন কাজ আপনি না করতে পারলে তার সন্দেহ তৈরি হবে। এতে অশান্তি তৈরি হবে।

অন্য কারও জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তুলনা করা:

যে প্রতিনিয়ত অন্যদের সঙ্গে তার এবং আপনার জীবনের তুলনা করে, তার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনরা আপনার চেয়ে বেশি ধনী, বেশি সুখী এবং আপনার চেয়ে সফল, এসব বিষয় তুলবে। তখন বুঝে নিতে হবে এখানে ভালোবাসা নয় চাহিদা কাজ করছে। যে আপনার অবস্থা বিবেচনা না করে তার চাহিদা পূরণের ইচ্ছে পোষণ করে বসে আছে। আর আপনি সে চাহিদা পূরণ করতে যখন অক্ষম, তখনই শুরু হচ্ছে তুলনা। কিন্তু সর্বোপরি দুজনের কেউই সুখী হতে পারবেন না।

শুধু সঙ্গীর নয় তার পরিবারের খোঁজও নিন

সম্পর্ক শুধু দুটি মানুষের মধ্যে নয়, মূলত দুটি পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে৷ সবার আগে তাই দেখা উচিত দুজন দুজনের পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন। তাই উভয়কেই একে অন্যের পরিবারের সঙ্গে মিশতে হবে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আপনি কতটা মিশতে পারছেন, তাদের মূল্যবোধ আর আপনার মূল্যবোধের মধ্য কী পার্থক্য রয়েছে, আসে সেসব দেখুন।

সঙ্গী নির্বাচনের আগে অবশ্যই উল্লিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। না হয় যার হাত ধরে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত কাটাতে চাইবেন, একসময় তিক্ততার সাগরের মাঝপথে হয়তো হাবুডুবু খেতে হবে সেই সঙ্গীকে নিয়ে।

অনন্যা/জেএজে