১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

১৪০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম নারী নেতৃত্বে চার্চ অব ইংল্যান্ড

WhatsApp Image 2025-10-03 at 20.32.37_f7e44665

ইংল্যান্ডের চার্চের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম কোনো নারী, সারা মুলালিকে ক্যান্টারবারির নতুন আর্চবিশপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার্চটির এক হাজার ৪০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী এ পদ পেলেন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, চার্চটির প্রথম নারীপ্রধান ও বিশ্বব্যাপী অ্যাংলিকান সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে বসতে যাচ্ছেন তিনি। রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত প্রসারিত চার্চ অব ইংল্যান্ডের শেকড়। বছরের শুরুর দিকে একটি নির্যাতন কেলেঙ্কারির দায়ে পদত্যাগ করা জাস্টিন ওয়েলবির উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কমিটি মুল্যালির নাম প্রস্তাব করে। রাজা তৃতীয় চার্লস সেই মনোনয়ন অনুমোদন করেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

৬৩ বছর বয়সী মুলালি হচ্ছেন চার্চটির ১০৬তম আর্চবিশপ অব ক্যানটারবির পদাধিকারী। প্রথম আর্চবিশপ নিযুক্ত হয়েছিলেন খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের শেষভাগে। সাবেক নার্স মুলালি এক বিবৃতিতে বলেন, এই নতুন ভূমিকা একটি ‘বৃহৎ দায়িত্ব’ হলেও তিনি ‘শান্তি ও ঈশ্বরের ওপর আস্থা’ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।

এদিকে প্রথম নারী আর্চবিশপের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন,‘চার্চ অব ইংল্যান্ড আমাদের দেশের জন্য গভীর গুরুত্ব বহন করে। এর গির্জা, ক্যাথেড্রাল, স্কুল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন আর্চবিশপ জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’

এর আগে, এক প্রতিবেদনের পর ওয়েলবি পদত্যাগ করেন। যেখানে দেখা যায় চার্চ অব ইংল্যান্ড ১৯৭০-এর দশকের একাধিক নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিল। আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে বিষয়টি জানার পরও ওয়েলবি জানাতে ব্যর্থ হন কর্তৃপক্ষকে।

স্বতন্ত্র তদন্তে জানা যায়, ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ইভানজেলিকাল সামার ক্যাম্প আয়োজন করতেন আইনজীবী জন স্মাইথ এবং সেখানে প্রায় ১৩০ জন কিশোর ও তরুণকে নির্যাতন করেছিলেন।

Advertisements

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৭৫ বছর বয়সে ব্রিটিশ পুলিশের তদন্তাধীনে স্মাইথ মারা যান। তিনি ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি কোনোদিনই হননি। এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন তোলে ও চার্চ অব ইংল্যান্ডে সংস্কারের দাবিকে জোরালো করে। এই চার্চের সর্বোচ্চ প্রধান হলেন ব্রিটিশ সম্রাট।

চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রায় দুই কোটি বাপ্তাইজড সদস্য রয়েছে, যদিও ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী নিয়মিত গির্জায় যাতায়াতকারীর সংখ্যা এক মিলিয়নেরও কম।

দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে রাজা তৃতীয় চার্লস মুলালিকে নিয়োগ দেন এবং সেখানে ব্রিটিশ গোপন নিরাপত্তা সংস্থা এমআই৫-এর সাবেক প্রধানও অংশ নেন।

অ্যাংলিকান চার্চ ১৫৩০-এর দশকে রাজা অষ্টম হেনরির রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে বিচ্ছেদের পর থেকে রাষ্ট্রীয় চার্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ৬৩ বছর বয়সী মুলালি একসময় নার্স ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের প্রধান নার্সিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০০ এর দশকের শুরুর দিকে। চার্চগুলোতে একটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সংস্কৃতি তৈরি করার পক্ষে কাজ করছেন তিনি, যেখানে থাকবে ভিন্নমত ও মতবিরোধের স্থান।

রাজা চার্লসের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় শুক্রবার চার্চ অব ইংল্যান্ডের নতুন নেতা মুলালির নাম ঘোষণা করেন। রাজা হিসাবে চার্লসই ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গভর্নর; ষোড়শ শতকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে আলাদা হওয়ার পর রাজা অষ্টম হেনরি এই পদ সৃষ্টি করেছিলেন।

Advertisements