বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘ফেরেশতে’

fere

একের পর এক সিনেমা করে বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন জয়া আহসান। ইতোমধ্যে ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’, ‘ডিয়ার মা’ আর ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সিনেমা দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিটি ছবিতেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে হাজির হয়েছেন এবং তিনি প্রমাণ করেছেন নিজেকে বারবার ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

তবে এবার আসছে একেবারেই ভিন্ন রকম একটি সিনেমা ‘ফেরেশতে। আজ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ-ইরানের যৌথ প্রযোজনায় এই সিনেমা। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম। জয়ার কাছে ফেরেশতে শুধু আরেকটি চরিত্র নয়; বরং এক ধরনের আত্মঅন্বেষণও বটে।

জয়া বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষের জীবন যখন ক্যামেরায় ধরা হয়, তখন তা আর কেবল সিনেমা থাকে না, হয়ে ওঠে একটা দায়বদ্ধতা। আমি চেষ্টা করেছি, সেই দায়টা সত্যিকারভাবে বহন করতে। আমাদের চারপাশে যারা প্রান্তিক, সংগ্রামী আর সাহসী মানুষ আছেন, তাদের একজনের চরিত্র করেছি।’ 

নিয়মিত ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় জয়া আহসানকে। কিন্তু এবার তাঁর পথচলায় যুক্ত হয়েছে একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা ‘ইরানি ভাষার’ সিনেমায় অভিনয়। এই ছবিতে কাজ করা ছিল তাঁর জন্য এক অচেনা অভিযাত্রা। ভাষা জানেন না, সংস্কৃতিও আলাদা। তারপরও কীভাবে যেন এক অদ্ভুত সেতু তৈরি হয়েছে পরিচালক ও পুরো টিমের সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘চলচ্চিত্র আসলে ভাষাহীন এক শিল্প, যা সরাসরি হৃদয়ের কথা বলে। ওরা সবাই ইরানি ভাষায় কথা বলত। আমাদের কোনো মিল ছিল না ভাষায়। কিন্তু সিনেমার ভেতরে এসে সেই ব্যবধান আর টের পাইনি। হয়তো এ কারণেই বলা হয়, চলচ্চিত্রের কোনো ভাষা নেই। যে কোনো দেশের, যে কোনো ভাষার চলচ্চিত্র আমরা বুঝতে পারি, অনুভব করতে পারি।’

ভাষার অনুপস্থিতি যেন উল্টো আরও গভীর সংযোগ তৈরি করেছিল। জয়ার কাছে এটি ছিল অভিনয়ের নতুন এক আবিষ্কার। তিনি উপলব্ধি করেছেন, কখনও কখনও শব্দ নয়; বরং দৃষ্টি আর নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সংলাপ। 

তিনি আরও বলেন, কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, ইরানিরা কতটা সংগঠিতভাবে কাজ করে। আগে শুধু নাম শুনতাম, এবার কাছে গিয়ে সত্যিটা দেখলাম। অভিনয় না করলে হয়তো কোনো দিনই বোঝা হতো না।’

ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করে অনেক আগেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান এনেছেন জয়া। এবার তাঁর বিশ্বাস, ‘ফেরেশতে’ তাঁকে অন্য এক জায়গায় নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘শিল্পের জন্য আমরা কিছু কাজ করি, জীবনের জন্যও করি। এই ছবিটি আমার প্রোফাইলে নতুন কিছু যোগ করবে বলে আমি আশাবাদী।’  

উল্লেখ্য, তৃতীয়বারের মতো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন তিনি। দায়িত্ব এখন আরও বড়, লক্ষ্য আরও স্পষ্ট– দারিদ্র্য হ্রাস, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে কাজ করা।

Advertisements