Skip to content

১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কানে টিনিটাসের কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন

স্টেফানি ফ্রেনৎসেলের কাছে নীরবতা ধরাছোঁয়ার বাইরে৷ ৪২ বছর বয়সি এই নারী টিনিটাসে ভুগছেন৷ সব সময়ে কানের মধ্যে শিসের মতো শব্দ শুনতে হয়৷ স্টেফানি বলেন, ‘‘আমার দৈনন্দিন জীবনে এটা স্থায়ী অবস্থা৷ সকালে উঠে তৈরি হয়ে, সন্তানদের দিনের জন্য প্রস্তুত করার সময় আমি শব্দটা তেমন টের পাই না৷ দ্রুত রেডিও চালিয়ে দিলেই হলো৷ সারাদিন কাজের সময়েও কোনো সমস্যা হয় না৷ কিন্তু মূলত সন্ধ্যাবেলায় যখন একটু শান্ত হই, যখন সন্তানরা শুয়ে পড়ে, নীরবতা বিরাজ করে এবং রাতে ঘুমানোর সময় শব্দটা আবার ফিরে আসে৷”

আচমকা এমন সমস্যার উৎসের একটা ব্যাখ্যা দিতে পারেন স্টেফানি৷ জোরালো মানসিক ধাক্কাই এই রোগের জন্য দায়ী৷ সেই অবস্থা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘‘গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী মারা গেলেন৷ তার পাঁচ মাস পর আমার শ্বশুরও চলে গেলেন৷ তারপর খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু, যে আমাকে জিনিসপত্র গোছাতে খুব সাহায্য করেছিলো, সে হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো ও তারপর আত্মহত্যা করলো৷ তারপর বছরের শেষে আমার বোনের স্তনের ক্যানসার ধরা পড়লো৷ তখন সব মিলিয়ে আমি আর নিতে পারছিলাম না৷”

ক্রনিক টিনিটাস কানের মধ্যে স্থায়ী শব্দ সৃষ্টি করে৷ প্রত্যেকের জন্য সেই অনুভূতি ভিন্ন৷ মনে রাখতে হবে, শব্দ শোনা শুধু কানের যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়৷ সেন্সরি হেয়ার সেল শব্দ তরঙ্গকে নার্ভ ইম্পাল্সে রূপান্তরিত করে৷ কিন্তু মস্তিষ্কই সেই বৈদ্যুতিক ইম্পাল্সকে অর্থবহ করে তোলে৷

সেগুলি কি জরুরি না গুরুত্বহীন? মনোরম না অপ্রীতিকর? অডিটারি স্টিমিউলাস ও মস্তিষ্কের মধ্যে এই মিথষ্ক্রিয়ার কারণে টিনিটাস দেখা দিতে পারে৷ মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা ভয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়৷

বিকট শব্দে কানের ক্ষতিও টিনিটাসের কারণ হতে পারে৷ কারণ, তখন মস্তিষ্ক এমন ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের অভাব কয়েক গুণ জোরালো করে তোলে, মস্তিষ্কে যার মাত্রাতিরিক্ত অনুপাত রয়েছে৷ এর পরিণতি হিসেবে টিনিটাস দেখা যায়৷

মাথার মধ্যে স্থায়ী শব্দ দূর না হওয়ায় দুই সন্তানের মা সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করলেন৷ মনে টিনিটাসের সন্দেহ হওয়ায় তিনি ড. উসো ভাল্টারের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন৷ চেকআপের সময়ে ড. ভাল্টার তাঁর কোনো শারীরিক পরিবর্তন এসেছে কিনা, সেটা পরীক্ষা করে দেখছেন৷ স্টেফানি জানালেন, আগের থেকে ভালো বোধ কলেও স্ট্রেস হলেই শব্দের জোর বাড়ছে৷

দুই দিনের মধ্যে কানের শব্দ দূর না হলে অবশ্যই ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত৷ তিনি ইনার ইয়ারে কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করেন এবং কানের শব্দের উৎস খোঁজার চেষ্টা করেন৷ কানের রোগ থেকে শুরু করে স্ট্রেসের মতো অনেক কারণ থাকতে পারে৷ কখনো হিয়ারিং এইড, কখনো বিহেভিয়ারাল থেরাপিও শব্দ দূর করতে সাহায্য করতে পারে৷

কারণ প্রায়ই কোনো শারীরিক উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রনিক টিটিনাস পুরোপুরি দূর হয় না৷ রোগীদের সেই সমস্যা সামলানোর কৌশল শিখতে হয়৷ ইএনটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. উসো ভাল্টার বলেন, ‘‘কারো সেই অনুভূতি হচ্ছে কিনা, অর্থাৎ, শব্দ শুনছেন কিনা, সেটা বিরক্ত করছে কিনা, সবটাই মনের মধ্যে ঘটে৷ সে কারণে টিনিটাসের চিকিৎসা ঠিক কানকে কেন্দ্র করে হয় না৷ এটা কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং স্ট্রেস সামলানো ও স্ট্রেস সিস্টেম তথা আমাদের আবেগের প্রণালীর উপর ভিত্তি করে এই সমস্যা দেখা যায়৷”

স্টেফানিও টিনিটাস সামাল দেবার নিজস্ব এক সমাধানসূত্র খুঁজে পেয়েছেন৷ তিনি নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করছেন৷ প্রায় ১০ মাস ধরে সেটা তাঁকে সাহায্য করছে৷ তিনি বলেন, ‘‘সন্ধ্যাবেলায় টিনিটাসের শব্দ বেড়ে যাবার কারণে আমি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে মেডিটেশন শুরু করেছিলাম৷ তাঁর কথা শুনে আমি নিজের শোবার ভঙ্গি ও সাপোর্ট পয়েন্ট ভালো করে বুঝে নিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রতি মনোযোগ দেই৷ এভাবে আমি শব্দ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারি৷”

টিনিটাস থেকে আদৌ কখনো মুক্তি পাবেন কিনা, স্টেফানি ফ্রেনৎসেল তা জানেন না৷ তবে তিনি কানের শব্দ সামাল দিতে শিখে গেছেন৷ শব্দ থাকলেও আগের মতো আর তত বিরক্ত করে না৷

অনন্যা/এআই

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ