Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মার্কেট ভর্তি মেয়েদের সাজসজ্জা আর খেলনাপাতি!

মার্কেট ভর্তি যত বাচ্চাদের দোকান এবং পোশাক-আশাকের দোকান আছে, সব কিছুতে মেয়েদের নিত্য নতুন ডিজাইনের সমাহার। একেক বার একেক রকম ট্রেন্ড আসে, জামাকাপড়ের আর গয়নার। খেলনার ক্ষেত্রে মেয়েদের খেলার জিনিষই দেখা যায় বেশি। শুনলে মনে হয়, মার্কেট থেকে শুরু করে সবখানে শুধু নারীদেরই রাজত্ব। অনেকে এটাও বলতে পারে, তবু শুধু শুধু মানুষ নারী অধিকার নিয়ে ঘ্যান-ঘ্যান কেন করে?

 

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন? মেয়েদের পোশাক এবং মেয়েদের খেলার জিনিষই কেন বেশি বাজারজাত করা হয়? এবং সবাই কেন এই ধারাকেই অবলম্বন করে? নারীর জীবনে কি পুতুল খেলা আর পোশাক আর সাজসজ্জা ছাড়া কিছু নেই! অবশ্যই থাকতে পারে। কিন্তু থাকে না কারন, এই সমাজ চায় না, নারীর দৃষ্টি অন্য কোনো দিকে আলোকপাত করুক। কেউ চায় না, নারী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করুক। কেউ চায় না, নারী টেকনোলজির কর্মক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করুক। কেউ চায় না, কোনো নারী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, এমন কোনো কাজে নিয়োজিত করুক নিজেকে।

 

 

কারণ, নারী যদি রাজনীতিকে বুঝতে শেখে, তখন সে নিজের ন্যায্য অধিকার চাইবে। ধর্মীয় রীতি-নীতি কোনটা যৌক্তিক আর কোনটা যৌক্তিক, সেটা নিয়ে ভাবতে শিখবে। মোটকথা, তার ওপর কোনো সামাজিক চাপ চাপিয়ে দেওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে।

 

কোনো দ্বায়-দায়িত্ব নারীর ওপরে দেওয়া থেকে নারী কোনো নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করলেই বরং ভালো। নারী বরং পুতুলের বিয়ে দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। নারী বরং চুলোর সাথে বন্ধুত্ব করে জীবন পার করুক। নারী বরং নিজেকে চকচকে পোশাক পরতে আর শরীরের চামড়া সাদা করায় মন দিক। তাহলে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো আরো মজবুত হবে। শাসন করাটা তাহলে আরো বেশি সহজ হবে।

 

 

এখন অনেকের মনেই এই প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের নিজের দেশের স্পিকার যখন নারী, প্রধানমন্ত্রী যখন নারী, তখন নারীকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না- এইরূপ কথা অতিমাত্রায় হাস্যকর শোনায়। কিন্তু আমাদের এই নারীরা উচ্চপদস্থ হলেও তাদের সে পারিপার্শিকতা, সেটা তো পুরুষ দিয়ে ঘেরা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সেই প্রসেসটা তৈরি করার কাজ তো তারাই করে থাকেন।

 

কিন্তু যখন কোনো আদালতের রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে লোকে কথা বলে, তখন লোকে এটা ভুলে যায় যে সিদ্ধান্তের সৈনিকগিরি করে চলেছে পুরুষেরা। সমাজের কিছু জেনারেজেইজেশন থাকে সব সময়। কম-বেশি সবাই শুনতে পারেন। মেয়েরা যখন আডডা দেয়, তখন তারা কি নিয়ে কথা বলে? ওরা কথা বলে নিজেদের চুল নিয়ে, মেকআপ নিয়ে, পোশাক নিয়ে আর রুপচর্চা নিয়ে। কিন্তু ছেলেরা যখন আড্ডা দেয়, তখন তারা কথা বলে ধর্ম নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, ইকোনোমিক্স নিয়ে, সাহিত্য নিয়ে  এবং ক্রিকেট-ফুটবল নিয়ে।

 

 

কিন্তু এই যে মেয়েরা আড্ডা দেওয়ার সময় রুপচর্চা, পোশাক-সাজসজ্জা আর কোন বাসন মাজার সাবান ভালো- এটা নিয়ে কথা বলে। কারণ, তাদেরকে ছোটবেলা থেকে এমন সব জিনিষ দিয়ে ব্যস্ত রাখা হয়েছে, যেটা দিয়ে সহজে ডোপামিন নিসঃরণ হয়। ডোপামিন নিঃসরণ হয় এমন সব জিনিষ দিয়ে, যা সহজে বোঝা যায়। যেটাতে বুদ্ধি খাটিয়ে এত কিছু করা লাগে না। অনেকটা ফেসবুকের মতো।

নারীদের এমন খেলনা আর চকচকে পোশাক দিয়ে দিন-দুনিয়া সম্পর্কে ভুলিয়ে রাখার স্ট্র্যাটেজিটা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর একটা বিরাট অর্জন। একজন বহু বছর নিজের শ্রম, অর্থ আর সময় বিনিয়োগ করে একটা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর মতো। নারী হিসেবে এই সাফল্য ভেঙে দিতে স্বভাবিকই কষ্ট হওয়ার কথা, কিন্তু নিজেরটা নিজে না বুঝলে আর বুঝবে কে?