Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিয়ের আয়োজনে এসেছে কত রদবদল!

আজকাল বিয়ে মানেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, নানান রকমের বাদ্য-বাজনা, গাড়ির বহর আরও কত কী! তবে এক কালে এসবের কিছুই ছিল না। তাই বলে তখন কিন্তু আনন্দেরও খামতি ছিল না। কিন্তু সেকালের আর একালের বিয়ের আনন্দ আয়োজনের মধ্যে এসেছে বিস্তর ফারাক। সেই বদলে যাওয়া দৃশ্যগুলোতে একটু চোখ বুলানো যাক।

উনিশ শতকের কথাই যদি বলি, সেকালে সাধারণত বিয়ের আগে বর-কনের দেখা হওয়া তো দূরের কথা, বিয়ের সময়ও দেখা হতো না৷ অভিভাবকদের সিদ্ধান্তেই দুজন দুই মেরুতে বসে কবুল বলতেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শুভদৃষ্টির সময়ই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বরকে প্রথম দেখতেন। তারপর মুখ নিচে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাবার বাড়ি ত্যাগ করে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিতেন। তখন সাজিয়ে আনা হতো পালকি, ভ্যান কিংবা গরুর গাড়ি।

অন্যদিকে আজকাল বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো শুধু বিয়ে আর বৌভাত দুইটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গায়ে হলুদ, মেহেদি, সঙ্গীত আরও কত কী! একটু শহরের দিকের মানুষজন আবার ব্যাচেলর পার্টি, ব্রাইডাল শাওয়ারসহ অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। নেচে-গেয়ে একসঙ্গে বিয়ের স্টেজে ওঠেন বর-কনে। সেকালে লজ্জায় কনে কবুল বলতে না পারলেও আজকাল হাসিমুখে অনায়াসে ৩ বার কবুল বলে ফেলেন কনে।

শ্বশুর বাড়ি যেতে পালকি কিংবা গরুর গাড়ি আসে না। আজকাল আসে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির বহর, আবার অনেকে ভিন্নতা আনতে হেলিকপ্টার, মটর সাইকেলসহ অনেক কিছুর সাহায্য নিয়ে থাকে৷ ইদানীং আবার ‘ডেসটিনেশন ওয়েডিং’-এর চাহিদা খুব বেড়েছে। আর্থিক দিক থেকে একটু বেশি স্বাবলম্বী মানুষ এদিকে বেশি ঝুঁকছেন।

আগেকার দিনে বিয়ের পোশাক বলতে কনের লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি আর বরের লাল অথবা অফ-হোয়াইট রঙের পাঞ্জাবি। শাড়ি-পাঞ্জাবি ছাড়া বিয়ে যেন অসম্পূর্ণ মনে হতো। তবে আজকাল রঙেও এসেছে ভিন্নতা, পোশাকের ধরনেও এসেছে ভিন্নতা। শাড়ির জায়গায় কনেরা ঝুঁকছেন লেহেঙ্গার দিকে আর বর ঝুঁকছেন কোর্ট-প্যান্ট অথবা শেরওয়ানিতে।

ভোজন-রসিক বাঙালির খাবারের ব্যাপারে টান বরাবরই একটু বেশি। সেকালে বিয়ে মানেই আগের দিন থেকেই চলতো তোড়জোড়। বাড়ির সব ঝি-বৌয়েরা মিলে তৈরি করতো হরেক রকমের পিঠেপুলি। বিয়ের ভোজনে থাকতো বিভিন্ন রকমের মাছ, মাংস সঙ্গে মিষ্টি, পিঠেপুলি। কব্জি ডুবিয়ে উদরপূর্তি করতেন সবাই । তবে একালে এসব তোড়জোড় খুব একটা চোখে পড়ে না। আজকাল ক্যাটারিংয়ের লোকেদের ওপরই সব দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। খাবারে থাকে, বিরিয়ানি, পোলাওসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খাবার।

বর্তমানে বিয়ের আরেকটি আকর্ষণীয় পার্ট হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। সেকালে বর-কনেকে পাশে বসিয়ে একটি ছবি তোলা হতো, ক্যামেরা না থাকার যুগে ছবি তোলার সুযোগও ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিয়ে মানে একগাদা ছবি, ভিডিও, সেলফি। কার বিয়ের ছবি কতটা ভিন্নধর্মী করা যায়, সে চিন্তায় মগ্ন থাকেন সবাই। কনে কান্নাকাটির পরিবর্তে সূক্ষ্মভাবে নজর রাখেন ছবি তোলার দিকে।

নানা ধরনের পরিবর্তন এলেও বিয়ে আজও আনন্দের একটি উপলক্ষ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি আমুদে পরিবেশ বিরাজ করে চারদিকে। তবে এ বিষয়টিকে আজকাল প্রতিযোগিতায় রূপ দিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়ে যায় সংকটে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কাড়ি কাড়ি অর্থ নষ্ট করা কতটা যুক্তিযুক্ত, এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

অনন্যা/জেএজে