২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্লেষণ

প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারীর মহাকাশ ভ্রমণ!

image-4032-1637488712

মহাকাশে ভ্রমণ করা যেন সকল মানুষের একটি স্বপ্ন। ভ্রমণের ইচ্ছা সকলের থাকলেও শারীরিক সক্ষমতা তেমনভাবে সকলের মাঝে থাকে নাহ। এর প্রভাবে এ স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায়। নারীদের এই স্বপ্ন ছোঁয়া যেন অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার সমান। মার্কিন মহাকাশের ভ্রমণের ইতিহাসে এখন অবধি কখনোই কোন কৃষ্ণাঙ্গ নারী মহাকাশ স্টেশন ভ্রমণ করেননি। তবে এবার এই শিকলের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিনস।  

আগামী বছর তাঁর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন জেসিকা। সব ঠিক থাকলে তিনি হবেন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী নভোচারী, যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছে।

 

২০২২ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন জেসিকা। এ সময় তাঁর সঙ্গী হবেন নাসার দুই নভোচারী কেজেল লিন্ডগ্রেন ও রবার্ট হাইনস এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী সামান্থা ক্রিস্টোফোরেত্তি। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করে গবেষণায় অংশ নেবেন। জেসিকা একজন ভূতত্ত্ববিদ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি নাসার নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। গত বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন মার্কিন নভোচারী ভিক্টর জে গ্লোভার। তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী। তাঁর পথ ধরে এবার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জেসিকা। তিনি নাসার চন্দ্র অভিযান প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  

 

তবে গ্লোভার ও জেসিকার আগে নাসার পক্ষ থেকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে যাওয়ার কথা ছিল জেনেত্তে এপসের। ২০১৮ সালে নভোচারী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে নাসা। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে নির্ধারিত যাত্রার মাত্র ছয় মাসের কম সময় আগে তাঁর নাম বাদ পড়ে। তবে এর কারণ প্রকাশ করেনি নাসা। ওই ঘটনার পর জেনেত্তে এপসের ভাই নাসার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছিলেন।

Advertisements

 

বর্ণবাদের থাবায় নিরন্তর স্তিমিত হচ্ছে প্রতিভা। বিকশিত হচ্ছে নাহ এক আধুনিক সুশীল সমাজ। বরাবরই ফিরে যাচ্ছি আমরা অতীতের সেই অন্ধকার যুগে। বিংশ শতাব্দীর এই প্রযুক্তির সময়ে আদৌ কি বর্ণবাদ কখনো যোগ্যতার সামনে টিকে থাকতে পারে? তবে এই বাধা জয় করার ব্রত নিয়েই এগিয়ে চলেছে নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিনস। 

 

 

Advertisements