Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বর্ষাকালের গাছের যত্ন

চলছে বর্ষার মৌসুম। আকাশে চলছে মেঘ আর রোদের মিষ্টি খেলা। গাছ রোপণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। নতুন বাগানিদের জন্য হাতে-খড়ির উপযুক্ত সময় এটি।প্রকৃতির আশীর্বাদে বর্ষায় সবুজে সয়লাব হয়ে যায় চারপাশ। একই সাথে সামান্য ভুলের কারণে নিজ হাতে গড়া শখের বাগানটি সর্তকতার অভাবে হয়ে উঠতে পারে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। বর্ষাকালে বাগানের গাছগুলোর পরিচর্চায় তাই দরকার বিশেষ যত্ন, আনতে হবে পরিবর্তন।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি না দেয়া: 

পানির অপর নাম জীবন। কমবেশি আমরা সবাই জানি। বৃষ্টির পানিতে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম,  ম্যাগনেসিয়াম, সালফেট ও নাইট্রেট আয়রন। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে রয়েছে নাইট্রোজেন, যা গাছের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। নাইট্রোজেন এর অভাবে গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে যায়,গাছে হয় না কোন ফুল, হয় না স্বাভাবিক বৃদ্ধি। মরুভূমির গাছ ক্যাকটাস বা সাকুলেন্ট জাতীয় গাছগুলোর প্রধান শত্রু বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি। বর্ষার দিনে এ সকল গাছের আশ্রয় হতে পারে শেড দেয়া কোনো জায়গা অথবা ছোট্ট চিলেকোঠা। টিনের তৈরি ছাদও ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছের গোঁড়া এবং মাটি ভিজা থাকা অবস্থায়  কখনোই  আবার পানি দেয়া উচিত নয়। এতে করে গাছের গোঁড়ায়  পচন দেখা দিতে পারে। দিনে দু'বার অথবা তার অধিক বেশি বৃষ্টি হলে গাছ সরিয়ে নিতে হবে এমন স্থানে যাতে করে গাছ বৃষ্টির পানির ছোঁয়া না পায়।

 

অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন:

অবিরাম  বর্ষণের ফলে গাছের টবে জমতে পারে পানি। টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা গাছের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া গাছের জন্য নির্ধারিত পাত্রে ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে। যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে টব কাত করে পানি ফেলে দিতে হবে। কোনোভাবেই টবে পানি জমতে দেয়া যাবে না। টবের অতিরিক্ত পানি হতে পারে এডিস মশার আবাসস্থল যা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

 

বর্ষাকালে সারের  প্রয়োজনীয়তা:

বৃষ্টির পানিতে যে পরিমাণে খাদ্য উপাদান থাকে গাছের জন্য, তাতে করে গাছে অতিরিক্ত সার দেয়ার প্রয়োজন নেই। রাসায়নিক সার তো নয়ই! প্রয়োজনে কিছুটা জৈব সার দেয়া যেতে পারে। ব্যবহৃত চা-পাতা, ডিমের খোসা গুঁড়ো গাছের জন্য খুবই উপকারী, কম-বেশি এ তথ্য আমরা সবাই জানি। তবে এ তথ্য আমাদের অজানা, উপকারী  এই চা-পাতা এবং ডিমের খোসা মাটিতে দ্রুত মিশে না যাবার কারণে তৈরি করতে পারে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও ফাঙ্গাসের বসবাসের জায়গা। কলার খোসার পানিও সাবধানে ছেঁকে দিতে হবে এই সময়।

 

কীটনাশক ও পোকামাকড়:

আর্দ্র পরিবেশে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। গাছের টবগুলোর মাঝে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে দিলে ভালো। নতুন পাতার রস খেতে হাজির হয় পোকামাকড়ের দল। টবের মাটিতে পিঁপড়েদের আনাগোনা হয় এই সময়। ছত্রাক-নাশক, ফাঙ্গিসাইডসহ বিভিন্ন রাসয়ানিক কীটনাশক ব্যাবহার করে দমন করা সম্ভব পোকামাকড়। তবে প্রাকৃতিক কিছু টোটকা ব্যবহার করাও মন্দ নয়, ফলাফল মিলবে সহজেই! রসুন, রান্নায় ব্যবহৃত হলুদের গুঁড়ো, নিমের তেল, কমলার খোসাসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদানেই মিলবে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে মুক্তি।

উপযুক্ত মাটি তৈরি :

বসবাসের ভিত্তি যদি ভালোভাবে তৈরি না হয়, কাঠামো তার নড়বড়ে হবেই! বর্ষার দিনে গাছ ভালো রাখার জন্য চাই এঁটেল মাটি, যা সহজেই টেনে নিবে অতিরিক্ত পানি। দায়সারা ভাবে মাটি তৈরি করে তাতে গাছ রোপণ করলে গাছ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কোকো-পিট বা নারকেলের ছোবড়া গুঁড়ো যা মাটিতে  পানি ধরে রাখে দীর্ঘসময় ধরে। এছাড়াও গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী মাটির অতিরিক্ত পানি শুষে নেওয়ার জন্য মাটি তৈরির ক্ষেএে ব্যবহার করা যেতে পারে ছোট ইটের টুকরো, কয়লা, পারলাইট,  নুড়ি-পাথর, মোটা সাদা বালু। সাথে মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে ছত্রাক-নাশক।

 

প্রকৃতির লাঙ্গল:

গাছের টবে কেঁচো দেখে বরং ভয় না পাওয়াটাই অস্বাভাবিক। তবে স্বস্তির কথা হলো এতে ভয়ের কিছু নেই।      মাটির টবের এই কেঁচো কাজ করবে নিড়ানির। কেঁচোকে বলা হয় প্রাকৃতিক লাঙ্গল।

 

অতিরিক্ত অংশ ছেঁটে ফেলা:

 

গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই গাছকে যেমন করে তুলবে আকর্ষণীয় তেমনি জায়গা করে দেবে নতুন ডাল অথবা কুড়ি জন্মানোর।

কিছুটা রোদের দরকার:

অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ গাছের জন্য হয়ে উঠতে পারে ক্ষতির কারণ। টানা আদ্রর্তাযুক্ত পরিবেশ থেকে বের হতে প্রয়োজন হালকা রোদের৷ তাই বর্ষায় এই রোদ-বৃষ্টির খেলার সময় বুঝে হালকা রোদ খেতে দিতে হবে গাছকে যাতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে নিতে পারে।