Skip to content

২২শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সম্পর্কের আরেক নাম ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’ 

প্রেম- ভালোবাসা খুব মধুর একটি সম্পর্ক। প্রেম করেছিলেন লাইলা, মজনু, শিরিন, ফরহাদ সহ আরও অনেকেই। এই প্রেমের টানে প্রাণ ও দিয়েছে অনেক প্রেমিক/ প্রেমিকা। 

 

আচ্ছা প্রেমে মানুষ কখন পড়ে? আমরা সবাই মনের অজান্তেই কাউকে না কাউকে ভালোবেসে ফেলি। কেউ প্রেমে পড়ে চেহারা দেখে, কেউ প্রেমে পড়ে কথা বলার ভঙ্গিতে আবার কেউ বা প্রেমে পরে আচার-আচরণে বা বুদ্ধিমত্তা দেখে।  
 

যারা এই যে বুদ্ধি মাত্রা দেখে প্রেমে পড়ে আসলে এটা কেন এমন হয়? সত্যি কি একজনের বুদ্ধিমত্তা দেখে তাকে ভালোবেসে ফেলা যায়! যদি বলি হ্যাঁ তাহলে? আর এই বিষয়টি কে বলা হয় 'স্যাপিওসেক্সুয়াল'। 

 
'স্যাপিওসেক্সুয়াল' হল, যখন একটি  মধুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপর ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা বিশেষ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে অপর মানুষটির চেহারা, শরীর ছাড়া তার বুদ্ধিমত্তা কেই ভালোবেসে ফেলে। এটি হতে পারে যে কোন সময় বা যে কারো সাথেই। কখন কাকে ভালো লেগে যাবে আসলে সেটি কেউ জানে না।

'স্যাপিওসেক্সুয়াল' এই প্রকৃতির মানুষদের কাছে শারীরিক সম্পর্ক তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, যত টা না গুরুত্বপূর্ণ প্রিয় মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। এদের কাছে প্রিয় মানুষটির বুদ্ধিমত্তাই বেশি আকর্ষণ করে থাকে। তাই শারীরিক চাহিদা ,বা চেহারা সেক্ষেত্রে বেশি ম্যাটার করে না। 

 

এই প্রকৃতির মানুষেরা প্রেমে পড়ে দেরি করে। মানে হল খুব জলদি কারো প্রেমে এরা পরে না। কেউ চাইলেও তাদের প্রেমে ফেলতে পারবে না। কেননা এরা হয়ে থাক একটু অন্য রকমের। 'স্যাপিওসেক্সুয়াল' রা দেরি করে প্রেমে পড়লেও ,যখন প্রেমে পড়ে তখন সবটা দিয়েই প্রেমে পড়ে। কারণ এইখানে কোন শারীরিক চাহিদা থাকে না, থাকে শুধুই মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। 

 

এক্ষেত্রে প্রেম শুরুর আগে তারা বন্ধুত্ব করতে বেশি পছন্দ করে থাকে। তাই চট করে কাউকে ভালো লেগে গেলে আগে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তোলে পরে আস্তে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে আগাতে থাকে। কেননা এই বন্ধুত্ব সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই মানুষটিকে দেখেন সে আসলে কতটা বুদ্ধিমত্তার একজন মানুষ। 

 

যদি বিষয়গুলো আরো সহজ করে বলি তাহলে, 'স্যাপিওসেক্সুয়াল'রা একটু ম্যাচিউর টাইপের অপর মানুষকে পছন্দ করে থাকে। ম্যাচিউর যারা তারা কিন্তু অনেক শান্তশিষ্ট হয়। এরা নিজেকে শত রাগের মাঝেও খুব ভালো ভাবেই নিজেকে সামাল দিতে পারে। খুব চট করে এরা রেগে যায় না এবং তারা সম্পর্কে থাকা অপর মানুষটিকে অনেক ভালো বুঝতে পারে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি কম হয়। তাই এক্ষেত্রে 'স্যাপিওসেক্সুয়াল' এই ধরনের মানুষের প্রেমে বেশি পড়ে। 

 

এরা যখন কারো প্রেমে পড়েন তখন মন উজাড় করে তাকে ভালোবেসে থাকে। আর এড়া খুব কম সংখ্যক লোকদের সাথে চলাফেরা করে থাকে। এরা সাধারণত একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে থাকে। এতে করে তার আশেপাশের লোকজন যদি সেটা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে। কিন্তু এক্ষেত্রে 'স্যাপিওসেক্সুয়াল' এর কিছু যায় আসে না। এদের পছন্দের বিষয়গুলো ও অন্যরকম যেমন, মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক। এই সকল বই পড়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখে সারাক্ষণ। 

 

সবাই হয়তো ভাবতে পারেন যে, এমন মানুষ ও কি দুনিয়াতে আছে? কিন্তু আমি যদি বলি এমন মানুষ আমাদের আশেপাশে অনেক আছে, হয়তো বা আমরা তাদের সম্পর্কে কিছু জানি  না। কিন্তু এমন মানুষের খুব একটা যে অভাব আছে তা ও কিন্তু নয় । 'স্যাপিওসেক্সুয়াল' রা সব সময় নিজেকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করে থাকে।

 

এক্ষেত্রে আপনার সাথে যদি মিলে যায় উপরের এই বিষয়গুলো তাহলে চিন্তার কিছু নেই বরং খুশি হোন। আপনি সবার থেকে একটু আলাদা আর এটা খারাপ কিছু না। প্রত্যেকের কিছু আলাদা আলাদা চাওয়া-পাওয়া থাকতেই পারে। সবার সাথে সবার পছন্দ মিলবে না এটাই নরমাল।  

 

তাই নিজেকে ভালবাসুন এবং নিজের পছন্দ কে গুরুত্ব দিন। 'স্যাপিওসেক্সুয়াল'রা কিন্তু সত্যিই অসাধারণ হয়ে থাকে। কেননা এদের চাওয়া গুলো অন্যদের থেকে অনেক ভিন্ন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ