Skip to content

১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিথীর ‘উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ 

সাবেক ক্রিকেটার আরিফা জাহান বীথি রংপুর স্টেডিয়ামে গড়ে তুলেছেন 'উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি'। ইনজুরির কারণে নিজে জাতীয় দলে খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু দেশের  জন্য দক্ষতাসম্পন্ন নারী ক্রিকেটার গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার একাডেমিতে কোন ধরনের ফি ছাড়াই ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেন উত্তরের মেয়েরা। ২৫০ জন উদ্যমি তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ২৩ বছরের এই সাবেক ক্রিকেটার।

 

আরিফা জাহান বিথী রংপুর জেলার নূরপুরে বেড়ে ওঠেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ সেরেছেন রংপুর থেকেই। ডিগ্রি পড়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজে। ক্রিকেটের নেশায় মত্ত হন স্কুলে পড়া অবস্থায়ই। ইন্টার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নেন তিনি। এরপরই তার সামনে এগিয়ে চলা শুরু হয়। ভর্তি হন ঢাকার পান্থকুঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে। ২০১১ ও ২০১২ রংপুর জেলা দলে নাম লেখান বিথী। ২০১২ সালে তিনি পেশাদার ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। খেলেছেন ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান, রায়েরবাজার দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে। কিন্তু ইনজুরির কবলে পড়ে ২০১৭ সালেই ইতি টানতে হয় তার ক্যারিয়ারের। সম্ভাবনা ছিল তার নিজেরই অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার। ক্রিকেটে তার পদচারণ ছিল দারুণ, ছিল এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। কিন্তু নাকের ইনজুরির কারণে ছেড়ে দিতে হয় ক্রিকেট খেলা। খেলা ছেড়ে দিলেও ক্রিকেটকে ছাড়েননা বিথী।

 

২০১৮ সালে তিনি আবার ফিরে আসেন ক্রিকেটে। কোচিং জীবনে প্রথম প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ হুইলচেয়ার নারী ক্রিকেট দলকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চালান ছয় দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। একই বছর ঢাকার আরবান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্রিকেট দলের কোচ ছিলেন দেড় মাসের মতো। এরপরই মাঠের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নারী ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। 

পরের বছর নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ক্রিকেটার আরিফা জাহান বিথী শুরু করেন বাংলাদেশের প্রথম নারীদের জন্য ফ্রি ক্রিকেট একাডেমি। রংপুরের জিমনেশিয়াম একাডেমিতে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর ১৫০ ছাত্রী নিয়ে যাত্রা করে বিথীর ‘উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’। রংপুরের সালমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুল ও কলেজ, মরিয়ম নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নগরীর আরো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছিলেন ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী। এতে খরচ হয়ে যায় নিজের জমানো সব টাকা। এটা জানার পর মেয়েকে উৎসাহ দিতে বিথীর মা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেন ২০ হাজার টাকা। সেই টাকায় বল, ব্যাট, প্যাড, হেলমেটসহ ক্রিকেটের সরঞ্জাম কিনে শুরু তাঁর একাডেমির যাত্রা। বিনে পয়সায় ক্রিকেট শেখা যায় বলে ৩০ জন থেকে দ্রুতই শিক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০ জনে। শুক্রবার ছাড়া ছয় দিনই বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলে এখানে। 

 

তার একাডেমি থেকে ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী বিকেএসপিতে পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পান আটজন।  বিথী চান তার এ সংগঠনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক নতুন দিনের সালমা, জাহানারা, রুমানা কিংবা সানজিদা। বিথী চান মেয়েরা পিছিয়ে না থাকুক। মেধাবী ও অসচ্ছল মেয়েদের ক্রিকেট শেখাতে বিথীর এই উদ্যোগ। ক্রিকেটের মাধ্যমে তারা যেন দেশকে উপস্থাপন করতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই তার ইচ্ছা। 

 

নিজের সঞ্চয়ের প্রায় পুরোটাই খরচ করেন এই আড়াই শ ক্রিকেটারের পেছনে। বিথী স্বপ্ন দেখেন, তার ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি নারীদের ক্রিকেট শেখার পাশাপাশি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। তার স্বপ্ন, আগামী পাঁচ বছরে তার একাডেমি থেকে কমপক্ষে পাঁচজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার গড়ে উঠবে। কেবল ক্রিকেট জগতেই নয়, তার এই ক্রিকেট একাডেমি বাংলাদেশে নারী উন্নয়নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ