ঐতিহ্যের দেশ জাপান

ঐতিহ্যের দেশ জাপান
ঐতিহ্যের দেশ জাপান
জাপান নিজেদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের বেশ যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে আসছে। এ কারণে এখানকার বিভিন্ন প্রদেশে হাজার বছরের পুরনো মন্দির, ভবন সহ নিদর্শন আজও দেখা যায়। জাপানের প্রকৃতি তার অফুরন্ত ভাণ্ডার সাজিয়ে রেখেছে পর্যটকদের জন্য। এখানকার প্রকৃতি দেখতে আর ঐতিহ্য জানতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন।  

সমগ্র বিশ্বের অন্যান্য দেশ গুলোর চেয়ে ভ্রমণের জন্য জাপান এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ একটি রাষ্ট্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উন্নত জীবনযাপন পদ্ধতির জন্য এটি বিচিত্র এক দেশ।

 

জাপান নিজেদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের বেশ যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে আসছে। এ কারণে এখানকার বিভিন্ন প্রদেশে হাজার বছরের পুরনো মন্দির, ভবন সহ নিদর্শন আজও দেখা যায়। জাপানের প্রকৃতি তার অফুরন্ত ভাণ্ডার সাজিয়ে রেখেছে পর্যটকদের জন্য। এখানকার প্রকৃতি দেখতে আর ঐতিহ্য জানতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন।  

 

বিশ্ব জুড়ে জাপানের আরাশিয়ামার বাঁশ বাগান বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। এই বাঁশ বাগানটি দেশটির কিয়াটো শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে। এটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বাঁশ বাগানের মাঝখানে তৈরি করা হয়ে পায়ে চলা পথ। সমগ্র বিশ্ব থেকে অনেক পর্যটকই এ বাগান দেখতে ছুটে আসেন।

 

যারা বৈচিত্র্যময় খাবার পছন্দ করেন তাদের জন্য জাপান আদর্শ একটি স্থান। ভাত থেকে শুরু করে এখানে বিভিন্ন স্বাদের খাবার পাওয়া যায়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, সবজি, নানারকম ফল আর ভিনেগার দেওয়া ভাত দিয়ে তৈরি খাবার 'সুশি' অনেক দেশের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। 

 

গোটা জাপান জুড়েই এপ্রিল থেকে মে মাসে চেরি ফুল ফোটে। এসময় পথ ছেয়ে যায় এই ফুলে। যারা ফুল ভালোবাসেন তারা এ সময়ে জাপানে যেতে পারেন। তখন জাপান সেজে ওঠে অন্য এক সাজে।

 

যারা অ্যানিমেশন মুভি দেখতে পছন্দ করেন জাপান তাদের জন্য সেরা। এখানকার ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে অ্যানিমেশনের চরিত্রগুলো আঁকা দেখা যায়। এছাড়া রাজধানী টোকিওতে আছে অ্যানিমেশন সেন্টার। চাইলে সেখানেও ঘুরতে যেতে পারেন।

 

বন আর প্রকৃতির জন্য জাপানের আলাদা সুখ্যাতি আছে। গোটা দেশে ৬২ টি বন রয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে কিংবা মেডিটেশন করতে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন এসব বনে। জাপানে হাজারো বছরের পুরনো সব বাগান রয়েছে। বর্তমানে সে গুলোতে আধুনিকতার ছাপ আনা হয়েছে।

 

জাপানে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ধানের। এই দেশের প্রায় সব প্রদেশে ধানের চাষ হয়। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল ফল এবং মাংসও উৎপাদন হয় বিভিন্ন ফার্মে। এ কারণে জাপানে কৃষি ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থানে। 

 

জাপানে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রায় সারা বছরই জাপানের স্থানীয়রা নানা ধরনের উৎসবে মেতে থাকে। কোন দেব-দেবীর উদ্দেশে, বিভিন্ন মৌসুমে বা ঐতিহাসিক কোন কারণে তারা উৎসব উদযাপন করে। কোন কোন উৎসব বেশ কয়েকদিন ধরে চলে।   

 

জাপান ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় মার্চ থেকে মে কিংবা সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। কারণ ওই সময়ে জাপানের তাপমাত্রা মাঝারি থাকে, বৃষ্টিপাতও কম হয়। সেই সঙ্গে মনোরম এক পরিবেশ বিরাজ করে।