সতর্কাবস্থায় আরেকটি ঈদ 

সতর্কাবস্থায় আরেকটি ঈদ 
সতর্কাবস্থায় আরেকটি ঈদ 
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব দেখে আমাদের আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে গেছে বেশ কয়েকগুণ। সাথে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতিও আগের তুলনায় বেশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ঈদের উচ্ছ্বাসকে অনেকটা দূরে ঠেলে আবারো সতর্কাবাস্থায় পালন করতে হবে আরো একটি ঈদ। পরিকল্পনা করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সচেতনভাবে ঈদ উদযাপনের।

ঈদ মানেই অফুরন্ত আনন্দ, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাঘুরি আরো কত কি। মুসলমান জাতির কাছে এই দিনটির রয়েছে অশেষ তাৎপর্য। এ দিনটিকে ঘিরে এক অফুরান  আনন্দধারা প্রবাহিত হয়। ঈদ মানেই অফুরন্ত উচ্ছ্বাস ও আনন্দে হারিয়ে যাওয়ার দিন। কিন্তু গতবছর থেকে এই সংজ্ঞায় বেশ অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। অদৃশ্য এক ভাইরাসের দাপটে থমথমে পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব। 


গতবছর করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব সাথে  নিয়ে প্রথমবারের মতো ভিন্নধর্মী ঈদ উদযাপন করেছে পুরো বিশ্ব। ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট এক ভাইরাসের ভয়ে। বরাবরের মতো ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়ায় ছিল নিষেধাজ্ঞা, ছিলোনা নতুন জামা পরে ঘুরতে বেরোনোর উচ্ছ্বাস। সবার চেষ্টা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সতর্কাবাস্থায় ঈদ উদযাপন করা৷ বছর ঘুরে আবারও এলো সেই খুশির ঈদ। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবার যেন আরো মারাত্মক রূপে ধরা দিচ্ছে।  আর তাইতো এবার প্রস্তুতি আরো একটি ঈদ সতর্কাবাস্থায় উদযাপনের।


গত বছরের শুরুতেই থাবা বিস্তার করতে থাকে কোভিড-১৯। ধীরে ধীরে  এক সময় তা বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়৷ একে একে লকডাউন হয়ে যায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ৷ বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান-আয়োজন৷ জনসমাগম বন্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একে একে অফিস-আদালত, গণ পরিবহন, বাজার এবং প্রার্থনালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ব্যতিক্রম হয়নি বাংলাদেশেও। এরপরে ধীরে  ধীরে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে  লকডাউন তুলে নেয়া হয়।


এরপর কয়েকমাসে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলেও ফের ঠিক এক বছরের মাথায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কোভিড-১৯। প্রথমবারের থেকেও ভয়ংকর রূপে আসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এবার করোনার এমন ভয়ংকর রূপের সাথে তাল মিলিয়েই আরো একটি ঈদ পালন করতে হচ্ছে মুসলমান ধর্মের মানুষদের। 


করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় আবারও লকডাউনের পথে হাটে বাংলাদেশ।  কয়েক দফায় বাড়তে থাকে লকডাউন। কিন্তু গতবারের ন্যায় ঠিকভাবে কার্যকর করা যায়নি এবছরের লকডাউন৷ ফের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লকডাউন চলাকালীন সময়েই দোকানপাট ও শপিংমল খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ঈদকে সামনে রেখে কেউ কেউ কেনাকাটা করলেও কেউ কেউ আবার স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে বিরত থেকেছেন এবারের কেনাকাটা থেকে। 


পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব দেখে আমাদের আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে গেছে বেশ কয়েকগুণ। সাথে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতিও আগের তুলনায় বেশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ঈদের উচ্ছ্বাসকে অনেকটা দূরে ঠেলে আবারো সতর্কাবাস্থায় পালন করতে হবে আরো একটি ঈদ। পরিকল্পনা করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সচেতনভাবে ঈদ উদযাপনের।