Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘করোনা যুদ্ধে’ আমাদের করণীয়

সারা বিশ্ব আজ হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে শুধুই বেঁচে থাকার জন্য এক প্রতিযোগিতা, এক লড়াই, এক যুদ্ধের সম্মুখীন। সব দেশই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশের মানুষদের ‘করোনার’ ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য। সীমিত সুযোগ সুবিধা নিয়েই আমাদের সরকারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভালো কিছু করার। বাধ সাধছে কিছু অসৎ জনগোষ্ঠী। আসুন আজ আমরা লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে অসুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের ভালো কিছু করার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াই।

 

দেশের স্বার্থে ও জনস্বার্থে আপনাদের প্রতি আমার কিছু পরামর্শ:

 

• আপনি জানেন কি? এক’শ জন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে কম করে হলেও ২০ – ২৫ জন উপসর্গ ও লক্ষণ বিহীন জীবাণুবাহক ও সাইলেন্ট স্প্রেডার। যারা চারিদিকে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিজের অজান্তেই নীরবে রোগ ছড়াচ্ছে অন্যের মাঝে। অতএব, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না, ঘরেই থাকুন। প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন এবং সামাজিক দূরত্ব (৬ ফুট) বজায় রাখুন।

 

• দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ – আমি মনে করি এ ব্যাপারে আপনাদের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই, তবুও বলছি। স্বল্প আয়ের মানুষদের দীর্ঘ সময় ঘরে আটকে রাখতে হলে আপাতত কম পক্ষে ১ মাসের খাবার প্রত্যেকের ঘরে পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করুন। অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতি পরায়ণ, সে যেই হোক না কেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। • মাস্ক প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ীদের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে নকল মাস্ক তৈরি ও সরবরাহ বন্ধ করুন। সাধারণ মানুষদেরকে আর ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিবেন না।

 

• চিকিৎসক, নার্স, আর্মি, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও অন্যান্য জরুরী কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ব্যবহারের জন্য নকল মাস্ক ও পি,পি,ই এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে হলে এই করোনা যোদ্ধাদের বিপদের মধ্যে ঠেলে না দিয়ে তাদেরকে সুরক্ষিত রাখুন, বিপদ মুক্ত রাখুন, আগলে রাখুন।

 

• আপনাদের কাছে আমার আরও একটি অনুরোধ – চিকিৎসক, নার্স, আর্মি, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও অন্যান্য জরুরী কাজে নিয়োজিত সকল করোনা যোদ্ধাদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে আমরা যেন তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। প্রথম সারির যোদ্ধা চিকিৎসক সহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সকল কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যাদি সরবরাহ সহ তাদের সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, ওরা হেরে গেলে কিন্তু পুরো যুদ্ধটাতেই আমরা হেরে যাবো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরকে শুধু সমালোচনা, অবহেলা আর ধিক্কার নয়, একটু প্রশংসাও যেন করি। সাহস, শক্তি ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও যেন যোগাই। তাদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ খবর রাখি। প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়াই। কখনোই তাদেরকে যেন আমাদের প্রতিপক্ষ না ভাবি। তারাও তো এই দেশেরই মানুষ, আমাদেরই সন্তান। আমাদেরই কারো না কারো ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আমাদের সেবায় তারা জীবন বাজি রেখে বীরের মত লড়ে যাচ্ছেন। অনেকেই সেবা দিতে গিয়ে রুগীর পাশেই নিজের বিছানা করে নিয়েছেন। অনেকে আবার না বলা অনেক কথা ও চাপা ব্যথা বুকে নিয়ে অভিমান করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এর পর কতটা দুশ্চিন্তা আর চাপ মাথায় নিয়ে সারাক্ষণ তাদেরকে কাজ করতে হয় তা আমরা কখনো ভেবেছি কি? আমরা কি তাদের প্রতি এতটুকু সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে পারিনা? তাদেরও তো আমাদের মত বাবা-মা আছে, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান আছে। তারাও তো আমাদের মতই মানুষ। অন্য কোন গ্রহ থেকে আসা রোবট কিংবা এলিয়েন নয়।

 

• আসুন, এই দুর্যোগ ও বিপদকালীন সময়ে সবাই মিলে আমাদের এই সোনার বাংলার সোনার মানুষদের রক্ষার্থে হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি। যে যেখানে আছি সবাই আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিক ও সুন্দর ভাবে পালন করার চেষ্টা করি।

 

• নিশ্চয়ই একদিন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। সেই দিন হয়তো খুব বেশী দূরে নয়, যেদিন আমরা আবিষ্কার করবো ‘করোনা’ চিকিৎসার ঔষধ। সুস্থ হয়ে উঠবে সকল মানুষ। ছোট্ট সোনা-মনিরা আবার স্কুলে যাবে। হেসে-খেলে, নেচে-গেয়ে আবার চারিদিক মুখরিত করে তুলবে। ভাঙবে আজকের এই গুমোট নিস্তব্ধতা। সবার মুখে আবার হাসি ফুটবে। আবিষ্কার হবে প্রতিষেধক ভ্যাকসিন। গুটি বসন্ত-কলেরাদের মত চিরদিনের জন্য আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী থেকে নির্মূল ও উচ্ছেদ হবে যমদূত ‘করোনা’ । পূর্বাকাশে উদিত হবে বিজয়ের লাল সূর্য। নীলাকাশে উড়বে শান্তির রঙিন পতাকা। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম। মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সহায় হোন।