ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে কেন? এর পেছনে রয়েছে যে কারণ

জেগে থাকা থেকে ঘুমের দিকে যাওয়ার সময় মস্তিষ্ক ও শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে। এই পর্যায়ে পেশি শিথিল হতে থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসে। ঠিক এই সময় হঠাৎ পেশিতে অনিচ্ছাকৃত সংকোচন ঘটলে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ঘুমের প্রাথমিক পর্যায়ের অনৈচ্ছিক পেশি সংকোচন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কখনো এর সঙ্গে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি, চমকে ওঠা কিংবা কয়েক মুহূর্তের জন্য হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও হতে পারে।
সাধারণত ঘুমিয়ে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে এটি ঘটে। একবার বা কয়েকবার এমন ঝাঁকুনি হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেসব কারণে বাড়তে পারে শরীর কেঁপে ওঠার প্রবণতা
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমের অভাব। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং ঘুমের সময় এমন ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাও এর প্রবণতা বাড়াতে পারে। সারাদিন নানা চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিংবা রাতে ঘুমানোর সময়ও অস্থির বোধ করার কারণে শরীর সহজে বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান, রাত জেগে থাকা এবং ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ব্যবহার করাও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ভারী ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পরও কারও কারও এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে প্রতিবার শরীর কেঁপে ওঠার পেছনে একই কারণ থাকে না। তাই ঘন ঘন এমন হলে নিজের ঘুমের অভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এটি কি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ?
ঘুমের শুরুতে একবার হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠা সাধারণত কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে সব ধরনের ঝাঁকুনিকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়। যদি ঘুমের মধ্যে বারবার ছন্দময় ঝাঁকুনি হয়, হাত-পা অনিয়ন্ত্রিতভাবে নড়তে থাকে, জিহ্বায় কামড় লাগে, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় কিংবা জ্ঞান হারানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঝাঁকুনির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা জেগে থাকার সময়ও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। আবার পায়ে নিয়মিত অস্বস্তি, টান বা নড়াচড়ার তাগিদে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। এসব উপসর্গের পেছনে অন্য ঘুমের সমস্যা বা শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
ঘুমের মধ্যে শরীর কেঁপে ওঠার প্রবণতা কমাতে প্রথমেই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি কমিয়ে দিন। ঘুমানোর আগে মুঠোফোনের ব্যবহার সীমিত করুন এবং হালকা বই পড়া, ধীর শ্বাস নেওয়া কিংবা প্রশান্তিদায়ক কোনো কাজে সময় কাটান। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক-দুবার এমন ঝাঁকুনি হলে আতঙ্কিত না হওয়া। কারণ ভয় ও দুশ্চিন্তা ঘুমের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সমস্যা ঘন ঘন হলে, ঘুম নষ্ট করলে কিংবা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন, ঘুমের শুরুতে শরীরের আকস্মিক ঝাঁকুনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।



