১০ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

বাস থেকে নেমে তাজমিন আইফোন চার্জ দেয় ১৫ মিনিট, এরপর কী ঘটে?

বাস থেকে নেমে তাজমিন আইফোন চার্জ দেয় ১৫ মিনিট, এরপর কী ঘটে?

কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে বাসায় যাওয়ার আগে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নেমেছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪)। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেলের সামনে একাই নামে সে। এরপর হোটেলের পাশের কিছু খাবার ও স্টেশনারি দোকানের সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে।

রাত ১২টার দিকে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথাও বলে সে এবং মুঠোফোনে কিছু একটা দেখায়। পরে পাশের রায়া ফ্যাশন নামের দোকানে গিয়ে মালিক রাসেলের কাছে নিজের আইফোন চার্জ দেওয়ার জন্য প্রায় ১৫ মিনিট সময় নেয়।

এরপর হোটেল এলাকায় যাওয়া-আসা করে তাজমিন। রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে ওই এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর কী ঘটেছিল, কার সঙ্গে সে গিয়েছিল এবং কীভাবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতে পৌঁছাল, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

তাজমিনের কাছে আইফোন থাকা এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন একটি দাবি সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা হোটেল নূরজাহানে নামার পর মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে রাসেলের দোকানে ফোন চার্জ দিয়ে থাকেন।

এদিকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে বিভিন্ন এলাকার সরু ও নির্জন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক সুমনকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Advertisements

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান সুমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনায় বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় পরিবারসহ নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবারের মতো কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায়। তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

তাজমিনকে কেন হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এদিকে কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন ছাড়া অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Advertisements