৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ভিজেও থামেনি অপেক্ষা, চাকরির দাবিতে অনড় প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা

prothomalo-bangla_2026-10-06_33e969ga_WhatsApp-Image-2026-10-06-at-11.38.14

একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তবু থামেনি তাদের অপেক্ষা। মাথার ওপর পলিথিন, হাতে ছাতা আর চোখে চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা—এভাবেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষিত বেকার প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। সোমবার সারারাত খোলা আকাশের নিচে কাটানোর পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালেও কর্মসূচি থেকে সরে যাননি আন্দোলনকারীরা।

সকাল ১০টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি, পরে কখনো ভারী বৃষ্টিও নামে। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতাও তাদের অবস্থান নড়াতে পারেনি। ছাতা ও পলিথিনের সামান্য আশ্রয় নিয়ে ভিজতে ভিজতেই কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেও তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রতিবন্ধিতা যেন তাদের যোগ্যতার চেয়ে বড় হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই তাদের মূল প্রত্যাশা। চাকরির সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের সদস্যসচিব আলিফ হুসাইন বলেন, সারা রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেউ তাদের খোঁজ নেননি। সকালে বৃষ্টির মধ্যেও পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি। মাত্র দুটি পলিথিনের নিচে মাথা গুঁজে কোনোভাবে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে আন্দোলনে থাকা অনেকেই ভিজে গেছেন। তবু ক্ষুধা, বৃষ্টি কিংবা রাতভর কষ্ট—কোনোটিই তাদের দাবির জায়গা থেকে সরাতে পারেনি। আলিফ হুসাইনের ভাষায়, পেটে ক্ষুধা থাকলেও এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও তারা ফিরে যাবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা।

এর আগে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা। পরে সোমবার বেলা ১১টার দিকে তারা আগারগাঁওয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। দ্বিতীয় দিনের এই কর্মসূচিতে তাই শুধু চাকরির দাবি নয়, উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশাও। বৃষ্টিতে ভিজে থাকা এসব তরুণের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও কি কর্মসংস্থানের জন্য এভাবেই অপেক্ষা করতে হবে?

সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Advertisements
Advertisements