৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

পূজার আগেই ঘর হোক ঝকঝকে, শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এড়াতে এখনই শুরু করুন ডিপ ক্লিন

Durga-Puja-Rituals-1

পূজার আবহ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। বাজারে নতুন পোশাকের সমাহার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাড়ের আয়োজন আর উৎসবের নানা প্রস্তুতি জানান দিচ্ছে—আনন্দের দিন খুব বেশি দূরে নয়। আর উৎসব মানেই শুধু নতুন পোশাক কিংবা মণ্ডপে ঘোরাঘুরি নয়, নিজের ঘরটাকেও সাজিয়ে তোলার পালা।


তবে পূজার একেবারে আগমুহূর্তে ঘর পরিষ্কার করতে গেলে উৎসবের আনন্দের চেয়ে ক্লান্তিই বেশি ভর করতে পারে। রান্নাবান্না, কেনাকাটা, অতিথি আপ্যায়ন ও বাইরে ঘোরাঘাটির ব্যস্ততার মধ্যে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। তাই শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে এখন থেকেই অল্প অল্প করে শুরু করতে পারেন ঘরের গভীর পরিচ্ছন্নতার কাজ।

এক দিনে সব নয়, কাজ ভাগ করে নিন

পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করলেই কাজটা কঠিন মনে হবে। বরং কয়েক দিন ধরে কাজ ভাগ করে নিন। একটি দিনে শুধু শোবার ঘর, পরের দিন বসার ঘর, অন্য কোনো দিন রান্নাঘর বা বাথরুম—এভাবে এগোলে পরিশ্রমও কম হবে, কাজও গোছানোভাবে শেষ হবে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় রাখলেই ধীরে ধীরে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব।

আগে বিদায় হোক অপ্রয়োজনীয় জিনিস

ঘর পরিষ্কারের আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলাদা করা। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি এমন পোশাক, পুরোনো কাগজপত্র, অচল বা ভাঙা জিনিস, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী কিংবা অপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ঘরে জমিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।

Advertisements

ব্যবহারযোগ্য জিনিস অন্যকে দিয়ে দিতে পারেন। আর একেবারেই অকেজো জিনিস সরিয়ে ফেলুন। এতে ঘরের জায়গা যেমন বাড়বে, তেমনি পরিষ্কার করাও অনেক সহজ হবে।

পরিষ্কার শুরু হোক ওপর থেকে

ঘর পরিষ্কারের সময় ওপর থেকে নিচের দিকে এগোনো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। প্রথমে সিলিং ফ্যান, ঝাড়বাতি, দেয়ালের ওপরের অংশ ও ঝুল পরিষ্কার করুন। এরপর জানালার গ্রিল, কাচ ও দরজার ওপরের অংশ মুছে নিন।

সবশেষে আসবাবপত্র পরিষ্কার করে মেঝে ঝাড়ু ও মুছুন। এতে ওপরের ধুলো নিচে পড়লেও শেষে মেঝে পরিষ্কার করার সময় সব একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা যাবে।

পর্দা-চাদরও থাকুক উৎসবের প্রস্তুতিতে

ঘরের ধুলোবালি শুধু আসবাবেই জমে না, পর্দা, সোফার কভার, কুশন, বিছানার চাদর ও পাপশেও জমে থাকে। তাই পূজার অন্তত এক-দুই সপ্তাহ আগে এগুলো ধুয়ে ফেলতে পারেন। যেসব জিনিস ধোয়ার বদলে ড্রাই ক্লিন করা প্রয়োজন, সেগুলোও এখনই দিয়ে আসা ভালো। এতে উৎসবের আগে পরিষ্কার জিনিসগুলো হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে।

রান্নাঘর পরিষ্কারে দিন বাড়তি গুরুত্ব

পূজার সময় বাড়িতে রান্নাবান্না বাড়ে। তাই রান্নাঘর আগে থেকেই ঝকঝকে করে রাখা জরুরি। প্রথমে রান্নাঘরের ঝুল ও ধুলো পরিষ্কার করুন। এরপর টাইলস, ক্যাবিনেট ও তাকগুলো ভালোভাবে মুছে নিন।

মশলার কৌটো, তেল বা ঘিয়ের বোতলও একে একে সরিয়ে নিচের জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিয়ে তাক ও ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। চুলা, ওভেন ও চিমনিতে জমে থাকা তেলচিটে ময়লা পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করুন।

বাথরুমেও চাই গভীর পরিচ্ছন্নতা

বাথরুমের টাইলসের ফাঁক, দেয়ালের কোণ, কল ও শাওয়ারে দীর্ঘদিনের পানির দাগ জমে যেতে পারে। তাই এখনই ভালো মানের বাথরুম পরিষ্কারক দিয়ে এসব জায়গা পরিষ্কার করে নিন।

আয়না ও কাচের দাগ পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করা যায়। পরিষ্কারের সময় বিভিন্ন রাসায়নিক পরিষ্কারক একসঙ্গে মেশানো থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।

শেষ মুহূর্তে শুধু উৎসবের সাজ

পূজার দুই-তিন দিন আগে পুরো বাড়িতে আবার ভারী পরিষ্কারের প্রয়োজন হবে না। তখন শুধু একবার হালকা ঝাড়ু-মোছা, প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখা এবং ঘর সাজানোর কাজ করলেই চলবে। পূজার বাসনকোসন, প্রদীপ ও অন্যান্য সামগ্রীও আগে থেকেই পরিষ্কার করে রাখতে পারেন। এতে শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

উৎসবের আনন্দ যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্লান্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সে জন্য বড় কাজটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করাই সবচেয়ে ভালো কৌশল। আজ থেকেই অল্প অল্প করে শুরু করলে পূজার দিনগুলোয় ঘর থাকবে পরিপাটি, আর আপনিও থাকবেন অনেক বেশি স্বস্তিতে।

Advertisements