৫ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

বাইরে ঘুরতে না নেওয়ায় বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে নারী

247f519597ab6e8f889d43fc7978437e-6ac343447c673

স্বামী অবসরে তাকে বাইরে ঘুরতে বা বেড়াতে নিয়ে যেতে আগ্রহী নন—এমন অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর এক নারী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।

শারজাহ আদালতের পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ওই নারী পারিবারিক পরামর্শ বিভাগে গিয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী বেশিরভাগ সময় ঘরে থাকতেই পছন্দ করেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই।

সংগৃহীত

তবে স্বামীর অন্যান্য গুণের কথাও স্বীকার করেন ওই নারী। তিনি জানান, স্বামী হিসেবে তার আচরণ অত্যন্ত উদার, ধৈর্যশীল ও ভদ্র। কিন্তু বাইরে যাওয়া এবং বিনোদনের বিষয়ে স্বামীর অনাগ্রহ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হতাশ ও উদ্বিগ্ন ছিলেন। একপর্যায়ে এ কারণেই তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

ওই নারীর অভিযোগ শোনার পর পারিবারিক পরামর্শ বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন। শুধু বাইরে ঘুরতে না যাওয়া বা বিনোদনের বিষয়ে মতের অমিলের মতো ছোট একটি কারণে যেন তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত না নেন, সে বিষয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।

কর্মকর্তারা তাকে আরও পরামর্শ দেন, অবসরে স্বামী বাইরে যেতে আগ্রহী না হলে তিনি চাইলে ভাই-বোন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে পারেন। এতে নিজের অবসরও আনন্দের সঙ্গে কাটানো সম্ভব হবে বলে তাকে বোঝানো হয়।

Advertisements

ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পছন্দ, অভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরনে কিছুটা অমিল বা মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রত্যেক মানুষের জীবনযাপন ও বিনোদনের পছন্দ একরকম হবে—এমনটা নয়।

তবে প্রতিটি মতবিরোধ বা পছন্দের অমিলের পরিণতি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দাম্পত্য সম্পর্কে বড় কোনো সংকট, নির্যাতন বা গুরুতর সমস্যা না থাকলে ছোটখাটো পছন্দ-অপছন্দের পার্থক্যকে আইনি বিবাদে পরিণত না করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সহনশীলতা, বোঝাপড়া ও সমঝোতার মাধ্যমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. আল রাইসি।

Advertisements