২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

প্রায় দুই শতাব্দী পর টেনেসিতে নারীর মৃত্যুদণ্ড

file_1788937239

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার আইনজীবীরা।

বিবিসিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে পাইক তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পাইক ও শিপ স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন। পরে পাইক অন্যদের কাছে হত্যার ঘটনাটি গর্বের সঙ্গে বলতেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

মামলায় পাইকের মৃত্যুদণ্ড হলেও শিপকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি চান না পাইক। পাশাপাশি তিনি চান, তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলটি যেন পুরোপুরি নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। টেনেসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে নির্ধারিত কারাগারে নেওয়ার সময় নারী কারারক্ষীদের ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

এদিকে নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য তিনি এ দণ্ড কার্যকর দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

Advertisements

অন্যদিকে পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের যুক্তি, একই ধরনের অপরাধে কোনো কিশোরী বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। একই সঙ্গে তারা পাইকের শৈশবের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আনার চেষ্টা করছেন।

ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী ডায়ানা ম্যাককয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশবে পাইক তার মায়ের সঙ্গী ও স্বামীদের কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হন। ১১ ও ১৭ বছর বয়সে অন্তত দুবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে পাইককে নিয়ে গবেষণা করা মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড বলেন, যাদের তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ছিল, তাদের মধ্যেই একাধিক ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করেছেন।

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, শৈশবের দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন তার আচরণ ও মানসিক প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব যুক্তির পরও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৭টিতে মৃত্যুদণ্ড আইনত বৈধ। টেক্সাসে ১৯৮২ সাল থেকে ৬০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আর টেনেসিতে ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটিতে ৪০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী রয়েছেন।

Advertisements