নিজ থানায় প্রথম হয়েও ভেরিফিকেশনে বা’দ তামান্না, দিলেন অভি’শা’প

মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির স্বপ্নটা যখন প্রায় হাতের মুঠোয়, তখনই যেন সবকিছু থমকে গেল তামান্না আক্তারের। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি। এমনকি নিজ উপজেলা মতলব দক্ষিণের মেধাতালিকায় প্রথম এবং পুরো চাঁদপুর জেলার মধ্যে ১১তম স্থান অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও শেষ পর্যন্ত হাতে এলো না সেই কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় তামান্নার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি ‘ট্যাগ’ দিয়েই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও তামান্নার দাবি, তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
চাকরি হারানোর খবর পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন তামান্না। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ! আমি এ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ধিক্কার জানাই! এ যেন কষ্ট করে পাওয়া চাকরিটাকে ছিনিয়ে নেওয়া, এ যেন মায়ের কোল থেকে একটা সন্তানকে ছিনতাই করা!’ নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও তুলে ধরেছেন তামান্না। তিনি জানান, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপেই উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুর জেলার মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল ১১তম। তবু নিয়োগের শেষ ধাপে এসে আটকে যায় তার পথচলা। তামান্নার ভাষ্য, প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, পুলিশ ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তার নামে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তামান্না আরও বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে সকল ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৮ মাস অপেক্ষার পর পলিটিক্যাল ট্যাগ দিয়ে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে আমি কিংবা আমার পরিবার কোনোকালে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না।’ ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আরও কঠোর ভাষায় নিজের হতাশার কথা জানান। তার ভাষায়, ‘যে দেশে মেধার মূল্যায়ন হয় না, আমি সে দেশকে তার মেধাবীদেরসহ ধ্বংস কামনা করি।’
তামান্নার ঘটনা অবশ্য একক কোনো ঘটনা নয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। কী কারণে এসব প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আদেশে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
তবে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণেই তাদের নিয়োগ আটকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগের শেষ ধাপে এসে এমন পরিস্থিতি তাই তামান্নার মতো অনেক প্রার্থীর কাছে তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা। মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়টি তাদের সামনে তুলে ধরেছে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্নও।



