অভিনয়ের স্বীকৃতি, সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন রানী মুখার্জি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জির অর্জনের তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি বিশেষ স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি তাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লেটার্স’ ডিগ্রি দিয়েছে। অভিনয়ে তার দীর্ঘদিনের অবদান, চলচ্চিত্রকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রানী মুখার্জির হাতে সম্মানসূচক এই ডক্টরেট তুলে দেয় লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছ থেকে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় তারকা তিনি। এর আগে ২০১৯ সালে অভিনেতা শাহরুখ খানকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এই বিশ্ববিদ্যালয়।

এই স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন রানী। তার মতে, অভিনয়জীবনে তিনি সব সময় নিজের পছন্দ ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে এমন গল্প ও চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যেগুলো তাকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দিয়েছে এবং যেসব গল্প দর্শকের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
রানী বলেন, একজন অভিনয়শিল্পীর দায়িত্ব শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিল্পী নিজের অজান্তেই তার সংস্কৃতি ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই একটি সিনেমা বা চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের কাছে সমাজ, সংস্কৃতি কিংবা একটি দেশের ভিন্ন কোনো দিক তুলে ধরার সুযোগও থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় সংস্কৃতি ও নারীদের জীবনকে তুলে ধরার প্রসঙ্গেও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, তার অভিনীত কোনো সিনেমা যদি একজন দর্শককেও ভারত বা ভারতের নারীদের সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে, কিংবা কারও মধ্যে সহমর্মিতার অনুভূতি তৈরি করে, তাহলেই একজন শিল্পী হিসেবে তার কাজ সার্থক।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে রানী মুখার্জি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ব্ল্যাক’, ‘হাম তুম’, ‘বান্টি অউর বাবলি’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মারদানি’ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’র মতো সিনেমায় তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
নিজের ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে রানী জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরুর সময় তিনি কখনো ভাবেননি তার অভিনীত গল্প ও চরিত্র একদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে নারীকেন্দ্রিক নানা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগকে তিনি নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন।

রানীর ভাষায়, তার অভিনীত চরিত্রগুলো কখনো ভালোবেসেছে, কখনো লড়াই করেছে, কখনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, আবার কখনো নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে গেছে। প্রতিটি চরিত্রই তার ব্যক্তিগত জীবন ও চিন্তাভাবনায় কোনো না কোনো পরিবর্তন এনেছে। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন মানুষ হিসেবেও নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে পেরেছেন বলে মনে করেন।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় রানী মুখার্জির জন্য এটি ছিল আরও একটি বিশেষ সময়। ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের চলতি আসরেও তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে পরিচিত করে তোলা এবং স্মরণীয় সব চরিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে।
ফলে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন রানী মুখার্জি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তার কাজ, বিশেষ করে শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অবদানের জন্য এই স্বীকৃতিগুলোকে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



