বেলুচিস্তানের স্বাদে ঘরেই তৈরি করুন মজাদার আলু কিমা

বেলুচিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে আলু কিমা বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ কিমার তুলনায় এই রান্নায় গুঁড়া মসলার ব্যবহার কম। ফলে মাংসের নিজস্ব স্বাদ, গোটা গরমমসলার সুবাস এবং আলুর স্বাদই হয়ে ওঠে রান্নাটির মূল আকর্ষণ।
সাধারণত গরু বা খাসির কিমা দিয়ে এই পদ তৈরি করা হয়। তবে বেলুচি রান্নায় খাসির মাংসের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তাই সুযোগ থাকলে খাসির কিমা ব্যবহার করতে পারেন।

উপকরণ
- খাসি বা গরুর মাংসের কিমা — ৫০০ গ্রাম
- মাঝারি আকারের আলু — ৩০০ গ্রাম
- ঘি — ৪ টেবিল চামচ
- বড় পেঁয়াজ — ১টি, পাতলা করে স্লাইস করা
- লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচি — প্রয়োজনমতো
- গোলমরিচ — ২ চা চামচ
- জিরা — ১ চা চামচ
- আদা — ১ ইঞ্চি, স্লাইস করা
- রসুন — ৪ কোয়া, অর্ধেক করে কাটা
- লবণ — স্বাদমতো
- ধনেপাতা — সামান্য
- পানি — আধা কাপ
যেভাবে রান্না করবেন
প্রথমে একটি ভারী বা লোহার কড়াই মাঝারি আঁচে বসিয়ে ঘি গরম করুন। ঘি গরম হয়ে এলে এতে লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। গরমমসলার সুবাস বের হলে জিরা ও গোলমরিচ দিয়ে দিন।
এরপর স্লাইস করা পেঁয়াজ, কাটা রসুন ও স্লাইস করা আদা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভাজুন। পেঁয়াজ সোনালি রঙের হওয়া পর্যন্ত ভাজবেন। তবে পেঁয়াজ যেন অতিরিক্ত গাঢ় বা পুড়ে কালচে হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে এতে কিমা দিয়ে আঁচ কিছুটা বাড়িয়ে দিন। কিমার দলাগুলো চামচ দিয়ে ভালোভাবে ভেঙে মসলার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর লবণ দিয়ে উচ্চ আঁচে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। কিমা ভালোভাবে বাদামি হয়ে পানি শুকিয়ে এলে বুঝবেন এই ধাপটি শেষ হয়েছে।
এবার মাঝারি আকারে টুকরা করে রাখা আলু কিমার সঙ্গে দিয়ে আলতোভাবে মিশিয়ে নিন। আধা কাপ পানি দিয়ে কড়াইয়ের ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন। আলু নরম হয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তবে আলু যেন অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে গলে কিমার সঙ্গে মিশে না যায়।

আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে ঢাকনা খুলে মাঝারি আঁচে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে যখন কিমার ওপর ঘি ভেসে উঠবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন।
সবশেষে ওপর থেকে কুচি করা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। স্বাদ অনুযায়ী লবণ ঠিক আছে কি না দেখে গরম গরম পরিবেশন করুন।
পরিবেশনের পরামর্শ
বেলুচিস্তানের এই আলু কিমা তাওয়া রুটি, রুমালি রুটি কিংবা আফগান-স্টাইল নানের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও ভালো লাগে। কম মসলা ও গোটা গরমমসলার সুবাসের কারণে এটি সাধারণ কিমার তুলনায় বেশ আলাদা স্বাদ দেবে।



