অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কী

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন আসে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে হঠাৎ করে মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘বেলস পালসি’। অনেকের ধারণা এটি স্ট্রোকের লক্ষণ, কিন্তু আসলে এটি মুখের স্নায়ুর একটি সাময়িক সমস্যা, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত করলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।
গবেষণায় দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যে সাধারণ মানুষের তুলনায় বেলস পালসির ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ পরিমাণ বেশি। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস (তৃতীয় ট্রাইমেস্টার) অথবা সন্তান প্রসবের ঠিক পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি জমে যাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার তারতম্যের কারণে মুখের একটি স্নায়ু বিকলতার কারণে এটি হয়, যার ফলে মুখের যেকোনো একপাশের পেশিগুলো নিয়ন্ত্রণ হারায়।
বেলস পালসির সাধারণ লক্ষণ
১। মুখের একপাশ ঝুলে পড়া
২। আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারা
৩। কথা বলা বা হাসার সময় মুখ বেঁকে যাওয়া
৪। কপাল কুঁচকাতে অসুবিধা হওয়া এবং
৫। স্বাদ অনুভূতি কমে যাওয়া
৬। অনেক ক্ষেত্রে কান দিয়ে অস্বাভাবিক জোরে শব্দ শোনা এবং মুখ থেকে লালা ঝরার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
১. দ্রুত পরামর্শ: লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
২. চোখের যত্ন: যেহেতু আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয় না, তাই চোখ শুকিয়ে যাওয়া বা ধুলোবালি থেকে ইনফেকশন হতে পারে। দিনের বেলা চোখের ড্রপ এবং রাতে ঘুমানোর সময় আইপ্যাচ ব্যবহার করা জরুরি।
৩. ফিজিওথেরাপি: মুখের বিশেষ কিছু ব্যায়াম বা ম্যাসাজ স্নায়ুকে দ্রুত সচল করতে অনেকটা সাহায্য করে।
বেলস পালসি সাধারণত কোনো স্থায়ী রোগ নয় এবং এর ফলে গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সঠিক চিকিৎসায় অধিকাংশ নারীই কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং পরিবারের সহযোগিতা পাওয়া সুস্থ হওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখে।



