বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
বিবিধ

শহিদ আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় আজ

e5a30ec5576180ad27a90617311970b8c274e15610df4fd5

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন এক যুবক আর পুলিশ তার বুকে একটার পর একটা গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন। তার নাম আবু সাঈদ। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই শিক্ষার্থীকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আবু সাঈদ এর হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ৯টার দিকে তাঁদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায় আজ (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করার কথা রয়েছে। রায় উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। আজ তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো.হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক আছেন। পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো.মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো.হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো.মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো.মাহাবুবার রহমান। রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো.আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো.শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো.আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও পলাতক রয়েছেন।আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো.সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো.মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো.ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো.আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য এর মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। তারপর থেকে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।

আবু সাইদবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরায়হত্যা মামলা