বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

বিলম্ব পেরিয়ে শুরু হলো বইয়ের উৎসব

বিলম্ব পেরিয়ে শুরু হলো বইয়ের উৎসব

বারবার তারিখ পরিবর্তন, জাতীয় নির্বাচন, মতপার্থক্য ও অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে অবশেষে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। ভাষার মাসের শেষ প্রান্তে, পবিত্র রমজানের আবহে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে এই বইয়ের উৎসব, যা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রথাগত এক মাসের পরিবর্তে এবারের মেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ দিনব্যাপী।

সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও মুক্তচিন্তার এই বার্ষিক মিলনমেলা প্রকাশক, লেখক ও পাঠকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পূর্ণতা পাবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির।

উদ্বোধন ও পুরস্কার প্রদান

আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে প্রদান করা হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন।

এদিন সকাল ১১টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের কৃতী সন্তানদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

সময়সূচি ও আয়োজন

আজ থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ।

এরই মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে সাজানো হয়েছে শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল। নতুন বইয়ের সমারোহের পাশাপাশি প্রতিদিন থাকছে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, লেখক-পাঠক সংলাপ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আয়োজন।

এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১,০১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১,০৮৪টি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।

মেলার বিন্যাস গতবারের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ।

খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।

বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হলেও এ বছর রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সময়সূচিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়। পরে প্রকাশকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে আবারও পিছিয়ে যায় মেলার তারিখ। শেষ পর্যন্ত সব প্রকাশকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ স্টল ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্যাভিলিয়ন না রাখার শর্তে ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে শুরু হচ্ছে এবারের আয়োজন।

১৪ ফেব্রুয়ারিবই মেলাবাংলা একাডেমি