বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

সংস্কৃতির পক্ষে কণ্ঠ, গানে গানে প্রতিবাদের উচ্চারণ

Untitled-1

দেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে গানকে হাতিয়ার করে একত্রিত হয়েছেন শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে ‘শুনাও আলোর জয়বাণী’ শিরোনামে এক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অন্ধকার যতই ঘনীভূত হোক, বাংলার সংস্কৃতি তার আলো ছড়াতেই জানে। গান, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে তারা সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মফিদুল হক। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কৃষ্টি হেফাজ। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, শিল্পচর্চার কেন্দ্র ও গণমাধ্যমের ওপর চালানো হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর দপ্তরসহ ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। এসব ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে মাজার ভাঙচুর, ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যাসহ সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন আসলে একই সূত্রে গাঁথা— যা সমাজকে ভেতর থেকে বিভক্ত করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।

এ সময় চট্টগ্রামে অনুরূপ একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পুলিশের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার ঘটনাকেও উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চায় রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরু হয় দলীয় সংগীত ‘নাই নাই ভয়’ দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় প্রতিবাদ ও প্রেরণার গান। সবশেষে ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি হয়।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন জহিরুল হক খান, সৈয়দ ফয়সল আহমদ ও মাহমুদা আখতার। সমাবেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।