২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

সিলেটে নারী উদ্যোক্তার উত্থান: ঘর থেকে বিশ্ববাজারে

Untitled-3

দুই দশক আগেও সিলেটে ব্যবসায় নারীর উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। এখন সেই দৃশ্য বদলে গেছে। সিলেট বিভাগের চার জেলায় গড়ে উঠেছে ছয় থেকে সাত হাজার নারী উদ্যোক্তা—কেউ দোকানে, কেউ অনলাইনে, আবার কেউ ঘরে বসেই ব্যবসা করছেন।

সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, আগে নারীদের ব্যবসা মানেই ছিল পোশাক বা পারলারকেন্দ্রিক উদ্যোগ। এখন নারীরা রেস্তোরাঁ, কুটিরশিল্প, ক্যাটারিং, আইটি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, চিকিৎসা উপকরণ, ফ্রিল্যান্সিং, বুটিক, ফুড–বিজনেসসহ নানা খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন।

চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধা সত্ত্বেও নারীরা এখন পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে ব্যবসায় এগোচ্ছেন। যথাযথ সহযোগিতা পেলে সিলেটের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

সিলেটের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম নাম রায়হানা বেগম (রেশমা)। বয়স ষাট পেরোলেও তাঁর উদ্যম এখনো তরুণ। শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। ‘কুরশিকাঁটা গ্যালারি’ নামে নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং গ্রাসরুটস সিলেটের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

৩৫ বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু করা কুরশিকাঁটার ব্যবসা আজ তাঁর পরিচিতি তৈরি করেছে দেশ–বিদেশে। শাড়ি, জামা, টেবিল ক্লথ, কুশন কভার, পুঁথির ব্যাগ, শিশুপোশাক, জুতা, টুপি, নানা ধরনের শোপিস—সবই তিনি নিজস্ব নকশায় তৈরি করেন।

একসময় পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁর পণ্য কিনে নিতেন; করোনা–পরবর্তী সময়ে অনলাইনে বিশাল ক্রেতাগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এখন নিয়মিত আগাম অর্ডার পান তিনি।

Advertisements

আগামী ১ ডিসেম্বর শিবগঞ্জে তাঁর প্রথম শোরুম চালু হচ্ছে, যেখানে তাঁর সব পণ্য থাকবে। বিদেশ থেকেও মাঝে মাঝে অর্ডার আসে বলে জানান তিনি।

রায়হানা বলেন,“মায়ের কাছ থেকে শেখা কুরশিকাঁটা একসময় সংসার চালিয়েছে। আজ তা-ই আমাকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়েছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

Advertisements