২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

শাড়ি পরে ক্লাসে আসা এক স্কুলছাত্রীর ব্যতিক্রমী গল্প

Untitled-1

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল এক অস্বাভাবিক দৃশ্য। শ্রেণিকক্ষের দ্বিতীয় বেঞ্চে বসা এক ছাত্রী স্কুল ইউনিফর্মের বদলে পরে এসেছে শাড়ি। ইউনিফর্ম পরা সহপাঠীদের ভিড়ে সে ছিল একেবারেই আলাদা।

বিদ্যালয়টিতে সাধারণত সাদা কামিজ, খয়েরি ওড়না ও পায়জামাই ইউনিফর্ম। অনুষ্ঠান ছাড়া শাড়ি পরে আসার নিয়ম নেই। তবু ওই মেয়েটি কেন প্রতিদিন শাড়ি পরে আসে—জানতে গিয়ে উঠে আসে বাল্যবিবাহের আরেকটি বাস্তব গল্প।

উপকূলীয় শ্যামনগর এলাকায় বাল্যবিবাহের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। বিবিএসের তথ্য বলছে—জেলায় ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ৬২ শতাংশের বেশি; শ্যামনগরেই ৬৩ শতাংশ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলেই অনেক শিক্ষার্থীর বিয়ে দেওয়া শুরু হয়। দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় অর্ধেক মেয়েরই বিয়ে হয়ে যায়, আর অধিকাংশই আর স্কুলে ফিরে আসে না।

এ বছরের দশম শ্রেণির ব্যাচে ২০ জনের বিয়ে হয়ে গেছে—ফিরেছে মাত্র একজন। সে-ই আজ দ্বিতীয় বেঞ্চের শাড়িপরা মেয়েটি।

গত বছর তার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পড়াশোনা বন্ধ করতে বললেও শিক্ষক ও নিজের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত আবার বিদ্যালয়ে আসার অনুমতি পেয়েছে। তবে শর্ত একটাই—সে বিদ্যালয়ে আসবে শাড়ি পরে। কারণ পরিবার মনে করে, ইউনিফর্মের জামা–প্যান্ট পরলে ‘লোকজন কথা বলবে’।

মেয়েটি জানাল, “পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। শাড়ি পরেই আসতে হয়—তবুও আসি।”

Advertisements

মাত্র পাঁচ মাস হলো আবার তার স্কুলে ফেরা। শাড়ি পরার বাধ্যবাধকতা তার পথ সহজ না করলেও, সে নিজের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisements