২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

দারিদ্র্যের দেয়াল ভেঙে মিতার বিসিএস জয়

Untitled-2

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামের মিতা খাতুন। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে সমাজসেবা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত আসতে মিতাকে লড়তে হয়েছে দারিদ্র্য, অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা আর অসংখ্য “না”-এর সঙ্গে।

মিতা যখন ছোট, তখনই শুনলেন তাঁর বাবা মাহাবুল ইসলাম বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। পরে জানা যায়, তিনি ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। বছরখানেক সংগ্রামের পর তিনি ফিরে আসেন গ্রামে এবং বাজারে ছোট একটি চায়ের দোকান দেন—এখনো সেটাই পরিবারের একমাত্র আয়।

সংসারের টানাপোড়েনে মিতার পড়াশোনা সবসময়ই বাধার মুখে পড়ে। সহযোগী বই কেনার সামর্থ্য ছিল না; নবম শ্রেণিতে উঠে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে মানবিক বিভাগে পড়েন, তবুও এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ আর উপজেলায় মানবিকে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন তিনি।

মায়ের দুই ছাগল—বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রার মূলধন

মিতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন জানতেন তাঁর মা সেলিনা বেগম। তাই এসএসসির বৃত্তির ১৬ হাজার টাকা দিয়ে দুইটি ছাগল কিনে রাখেন—যাতে মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় আর “না” শুনতে না হয়। পরে শিক্ষকেরা চাঁদা তুলে সহায়তা করেন, স্থানীয় ইউএনও-ও এগিয়ে আসেন। অবশেষে মিতা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে।

টিউশনির টাকা দিয়ে সংসার

Advertisements

করোনাকাল থেকে শুরু করে পড়াশোনার পুরোটা সময়ই মিতা সংসারের খরচ চালাতে সাহায্য করেছেন টিউশনির টাকায়। প্রথম দিকে ‘সমাজবিজ্ঞান’ শুনে টিউশনি না পেলেও শেষ পর্যন্ত চারটি টিউশনির দায়িত্ব নেন।

ভাইভায় যাওয়ার শাড়ি—শিক্ষকের উপহার

৪৯তম বিসিএসের ভাইভা দিতে কী পরবেন—এই ভাবনায় ছিলেন মিতা। বান্ধবীদের শাড়ি নেবেন বলতেই বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল নিজের সংগ্রহ থেকে একটি শাড়ি পাঠিয়ে দেন। সেই শাড়ি পরে ভাইভায় অংশ নেন মিতা।

অবশেষে বড় স্বপ্নপূরণ

১১ নভেম্বর ফল প্রকাশের পর জানা যায়, সমাজবিজ্ঞান থেকে মাত্র ১৫টি আসনের একটিতে জায়গা হয়েছে মিতার। খবর পেয়ে প্রথমেই ফোন করেন মাকে—“মা, তোমার মেয়ে ক্যাডার হয়েছে।”

মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবা পাশে থেকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেদিন তিনজনের চোখেই ছিল আনন্দের অশ্রু।

পরিবারের স্বপ্ন বহন করে এগিয়ে চলা

মিতারা দুই ভাইবোন। নবম শ্রেণিতে পড়া ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচও মিতাই বহন করেন। ভবিষ্যতে তিনি মানুষের সেবা করতে চান, আর মা–বাবাকে দিতে চান একটি নিরাপদ, উন্নত জীবন।

Advertisements