যমুনার চরে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন নারীরা

সিরাজগঞ্জে যমুনা চরের হাজারো নারী-পুরুষ প্রতিদিন প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবনযাপন করছেন। নদীভাঙন আর অনিশ্চয়তার মাঝেও চরের উর্বর পলিমাটিতে ফসল ফলাতে পুরুষের পাশাপাশি সমান দক্ষতায় কাজ করছেন নারীরা। কোমল হাতেই তারা চালাচ্ছেন কাস্তে-কোদাল, সামলাচ্ছেন চাষাবাদের সব কাজ।
সদর উপজেলার মেছড়া চর ও কাজীপুরের নাটুয়ারপাড়া চরে দেখা যায়—বালির বিস্তীর্ণ মাঠে বাদাম লাগাতে ব্যস্ত নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। রেহাইশুড়িবেড় চরের রেহানা মজিদ ও তার স্বামী ইতোমধ্যে তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা রোপণ করেছেন—এক বিঘা নিজস্ব, দুই বিঘা বন্ধক। শ্রমিক নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় স্বামীর সঙ্গে মাঠে নামছেন রেহানাও।
দিনমজুর হিসেবে রেহানাদের জমিতে কাজ করছেন ৩২ বছর বয়সী ময়না খাতুন। মেয়ে কলেজে পড়ে, ছেলে স্কুলে—রিকশাচালক স্বামীর আয়ে সংসার চলে না বলেই মাঠে নেমেছেন তিনি। দিনে ৩০০–৫০০ টাকা আয় হয়। ময়না বলেন, “দুই জনের আয়ে এখন সংসার ভালোই চলছে। কাজ করে খাই—লজ্জা কিসের?”
অন্যদিকে খাসরাজবাড়ী চরের হালিমার গল্প ভিন্ন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে, এক বছর পর মা হওয়া, তারপর স্বামীর পরিত্যাগ—একা মেয়েকে নিয়ে টিকতে হয়েছে বাবার বাড়িতে। তবে পরিত্যক্ত জমিতে নেপিয়ার ঘাস লাগানোই পাল্টে দেয় তার জীবন। প্রথম ৫০০ টাকা আয় থেকেই শুরু। পরে আরও জমি নিয়ে বাড়ান ঘাসের চাষ। এখন মুরগির খামারসহ দুই জন নারী শ্রমিক নিয়ে তিনি পুরোপুরি স্বাবলম্বী।
প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ঘাস ও হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও এগিয়ে গেছেন হালিমা। নিজের মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। বাবাও এখন গর্ব করেন তাকে নিয়ে। চরের নারীদের কাছে হালিমা আজ অনুপ্রেরণার নাম।



